সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ হাওরবেষ্টিত জেলাগুলোর স্থায়ী পানিবদ্ধতা নিরসন এবং একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং অপরিকল্পিত বাঁধ অপসারণের দাবি জানান।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সন্তান শিশির মনির চিঠিতে হাওরবাসীর জীবন-জীবিকার চরম সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, হাওরের বিশাল জনপদ কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতার কারণে সেই ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ পরিস্থিতিতে সমস্যাটির গভীরতা অনুধাবনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শনের বিনীত অনুরোধ জানান।
হাওর অঞ্চলের পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে তিনটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছেন এই আইনজীবী। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিদর্শন; দ্বিতীয়ত, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও নিখুঁত কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী নিযুক্ত করা এবং তৃতীয়ত, প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তদারকির আওতায় আনা।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের আমলেই খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা একসময় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় দিরাই-শাল্লাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বেশি করে খাল খননের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আইনজীবী শিশির মনির আরও অভিযোগ করেন, হাওরে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বাঁধগুলো পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনপদের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
তাই বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদী ও খাল খননই হতে পারে এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান। প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততার কথা স্বীকার করেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার প্রধানের সদিচ্ছা থাকলে এই মানবিক বিপর্যয় থেকে দ্রুতই মুক্তি পাবে লাখো কৃষক।
মূলত হাওরের ফসল রক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দারা সরব থাকলেও এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে খোলা চিঠি দিলেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।