বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি প্রদান করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারিসহ তিন দাবিতে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবিগুলো হলো-

১. মাহদী ও সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে; তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি রোধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচি হলো-

১. জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রণয়ন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

এ তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে মামলা করবে সংগঠনটি।

২. একই সঙ্গে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জারি নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

৩. নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার লক্ষ্যে কর্মসূচি চলমান থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স একজন আসামিকে ধরতে পারে না, এটা আসলে সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়। বরং আসামিকে যাতে না ধরা হয়, তাদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকারীদের পেছনে থাকা কুশীলবদের নাম জনগণের সামনে প্রকাশ করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই জায়গা থেকে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, এই হত্যার বিচার না করে যাঁরা নির্বাচনের মাঠে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান বলেন, যখন সারা বাংলাদেশ বিজয় মিছিলে করছিল সেদিনই একই সময়ে আমার হবিগঞ্জ জেলায় নয়জনকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছিল। হবিগঞ্জে থানায় মামলা বাণিজ্যের মহোৎসব হয়েছে।

তিনি বলেন, একজন জুলাই সহযোদ্ধাকে যখন থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তখন এর প্রতিবাদে আমার থানায় যাই। আলোচনার এক পর্যায়ে আমি বলেছিলাম ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’। এই আমরা মানে আমি না, এই আমরা মানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই। তখন প্রেক্ষাপটই এমন ছিল। এই ঘটনার জন্য আমাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেন, যে পুলিশগুলো আমাকে আপু বলে ডাকতো তারাই আমার সাথে এমন নিকৃষ্ট আচরণ করেছে, যা বলার মতো না। আমার মা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে আমাকে ছাড়ানোর জন্য। আমি ১১ দিন জেলে থাকায় যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা বলার মতো না। আমকে দুইবার রিমান্ড দেওয়া হয়েছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নই। অরাজনৈতিকভাবেই আন্দোলন করেছি। দেশের জন্য এতো কিছু করার পরও আমাকে ১১ দিন নির্যাতন করা হয়েছে, পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে দেয়নি। আমি এই মামলা থেকে মুক্তি চাই।