গণভোটের রায় কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়। তাই অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শনিবার দেশের বিভাগীয় শহরে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের ব্যুরো অফিস এ খবর জানায়।
সিলেট ব্যুরো: ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিনাভোটে, মধ্যরাতের ভোটে ও ডামি নির্বাচন দিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের করে নিয়েছিল। তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শুধু গদি নয়, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এদেশে আবারও যদি কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন তাদেরকে অতীতের ফ্যাসিস্টদের পরিণতির ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা দেশে আর ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে দিবে না।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ও সংবিধান সংস্কার। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে জনগণ পরির্তন ও সংস্কার চায়। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ ভোটকে পুঁজি করে বিএনপি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানীর ফল ভালো হবে না। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এখনো রাজপথে রয়েছে।
তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জুবায়ের আরো বলেন, সরকার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধীদলের অধিকার খর্ব করছে এবং গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণের লক্ষ্যে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও দলীয় সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে জ¦ালানি তেলসহ বাজারে নিত্যপণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপন্থী।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজলের সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ¦ মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর আমীর মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ ও সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার। জনপ্রত্যাশিত এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী। তারা সংসদে একের এক গণবিরোধী বিল পাসের মাধ্যমে দেশে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল বলেন, বিএনপি সরকার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার অধ্যাদেশসহবেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে আবারো ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বরিশাল অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ৫০ শতাংশ ভোটে দুই তৃত্বীয়াংশ আসন পেয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জেরে বর্তমান সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে অস্বীকার করতে চায়। অথচ গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দিয়েছেন ৭০ শতাংশ ভোটার। তাই গণভোটের রায় কোন দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায়। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর টাউনহল চত্তরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার, লেবারপার্টি মহানগর সভাপতি এসএম সোহেল মাহমুদ, এবি পার্টি মহানগর সমন্বয়ক জিএম রাব্বি, এনসিপি বরিশাল জেলা আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনকসহ ১১দলীয় জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর মজলিসে শূরার সদস্য আনোয়ার হোসাইন। সমাবেশ শেষে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিল টাউনহল থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
খুলনা ব্যুরো : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার জনগণের আকাক্সক্ষাকে তোয়াক্কা না করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কারের ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা বৈধ আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলে অবৈধ, এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না।’ তিনি বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করে জাতীকে অপমান করেছে বিএনপি। সরকার জনস্বার্থের বাইরে গেলে রাজপথ এবং সংসদ সব জায়গাতেই প্রতিবাদ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর নিউমার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন এনসিপি খুলনা মহানগরীর সংগঠক মো. শামসুল আরেফিন, খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি এডভোকেট হানিফ উদ্দীন, খেলাফত মজলিসের এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, জুলাই যোদ্ধা মো. হুযাইফা প্রমুখ। এ সময় খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, আ স ম মামুন শাহীন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, হরিণটানা থানা আমীর মো. আব্দুল গফুর, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, মশিউর রহমান রমজান, খুলনা এনসিপি সংগঠক মাহমুদ হাসান ফয়জুল্লাহ, মিজানুর রহমান মোভা, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক মো. সাকিব, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি এডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম জাকির, জাহাঙ্গীর কবীর, মনজুরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। পরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ কওে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’Ñএমন নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতাকর্মীরা গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এর মাধ্যমে জুলাই সনদের সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত করুন।
তিনি বলেন, ভোটপ্রাপ্তির সংখ্যানুপাতে পিআর সিস্টেমে উচ্চ কক্ষ গঠন করুন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, ভারসাম্যপূর্ণ সরকার, মেধা ভিত্তিক নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির শাসন নিশ্চিত করুন। সরকারকে মনে রাখতে হবে ৫১℅ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে ৭০℅ সমর্থনের জনরায়কে উপেক্ষা করার সুযোগ জনগণ দেবে না। দাবি আদায় না করে জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে সৃষ্ট জনভোগান্তির দায় সরকার এড়াতে পারে না।
চট্টগ্রা ব্যুরো : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একই তফসিলে দুটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি একটি নির্বাচনকে বৈধ বলছে আরেকটি নির্বাচনকে অবৈধ বলছে! বিএনপির দ্বিচারিতা আচরণ জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতার সামিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকার আমাদেরকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা ৭০ শতাংশ জনগণের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এসেছি। সংসদে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে রাজপথেই সমাধান হবে। সরকারের যাত্রা দেখে মনে হয় সরকার ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করছে। তিনি জনগণের মুখোমুখি না হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা গণভোটে জনগণের রায় মেনে নেবে। তারা ৫১ শতাংশ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায়কে মেনে নিচ্ছে না। বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ৫১ শতাংশ জনগণের রায়কেও আমরা বৈধ বলতে পারি না। তিনি বিএনপিকে বিগত ১৭ বছরের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ আপনাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু আপনাদের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে আগামীতে জনগণকে পাশে পাবেন না। জনগণকে পাশে পেতে হলে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, খেলাফত মজলিস নগর সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, লেবার পার্টি মহানগর সহ সভাপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শাসুজ্জামান হেলালী, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শফিউল আলম, ডা. আবু নাছের প্রমুখ।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নায়েবে আমীর মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক, জোবায়ের হোসাইন ও মীর মুহাম্মদ শোয়াইব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, এলডিপির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আজগর চৌধুরী, খেলাফত মজলিস নেতা আবু তাহের তোরাবী, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমীর হোছাইন, ফারুকে আজম প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
রংপুর অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে গতকাল ১১ই এপ্রিল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখা ও ১১ দলের উদ্যোগে রংপুর নগরীতে এক বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নগরীর সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, গ্রান্ড হোটেল মোড় হযে শাপলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরী শাখার আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক র্পাটির রংপুর মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, খেলাফত মজলিস নেতা ইব্রাহীম খলিল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি আনিসুর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি।
রাজশাহী : অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহব্বান ও জ্বালানি সংকট উত্তরণে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে বিক্ষােভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য । শনিবার বিকেল ৫ টায় নগরীর আলুপট্রি মোড় থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে নগরীর গণকপাড়া মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর এ্যাড আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহনগরীর নায়েবে আমীর ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহব্বায়ক, মোবাশ্বের আলী, রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার, বাণিজ্য ও কল্যান সম্পাদক অধ্যাপক একে এম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, তারবিয়াত সম্পাদক, হাফেজ নুরুজ্জামান, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গণভোটের রায় অমান্য করে জনগণের সাথে প্রতারণার অভিযোগ তুলে জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের শিববাড়ী মোড় ৩৬ জুলাই চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেয়ামত সড়ক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মোঃ খায়রুল হাসান, কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও গাজীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি সালাহউদ্দিন আইউবী, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য আফজাল হোসেন, আজারুল ইসলাম মোল্লা, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম, নেয়ামত উল্লাহ শাকের, এমসিপির মুখ্য সমন্বয়ক এডভোকেট আলী নাসের খান, মহানগর সূরা সদস্য আশরাফ আলী কাজল, গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর এডভোকেট সাদিকুজ্জামান খান, টঙ্গী পশ্চিম থানা আমীর আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, গাছা থানা আমীর মাস্টার মিয়াজ উদ্দিন, বাসন থানা আমীর মাওলানা আকরামুল ইসলাম, পুবাইল থানা ভারপ্রাপ্ত আমীর এডভোকেট শামীম মৃধা, আইনজীবী থানা আমীর এডভোকেট শাহজাহান সিরাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইসমাইল পাঠানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ : গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। গতকাল শনিবার বিকালে শহরের চাষাড়া সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১১ দলীয় ঐক্য, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে সভায় সভাপতিত্বের বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার তিনি তাঁর বক্তব্যে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে তা কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি আরো বলেন জনগণের এ রায় মেনে না নিলে জনগণ তা উচিত জবাব দিবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে। আপনারা তাদের পথে হাটলে পালানোর সুযোগ পাবেন না।
এসময় সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন, এবি পার্টির মহানগর সভাপতি শাজাহান বেপারি, খেলাফত মজলিস মহানগর সভাপতি ইলিয়াস আহমাদ, এনসিপির মহানগর আহবায়ক শওকত আলী প্রমূখ।
শহীদ মিনার থেকে শুরু করে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি চাষাড়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডি আই টি গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা অবিলম্বে গন ভোট মেনে নাও নিতে হবে, দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা, ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান সহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।