জাগপা ছাত্রলীগের ঐতিহ্য, গৌরব ও সংগ্রামের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল রোববার ।

১৯৪৮ সালে মানবতার জন্য শান্তির জ্বলন্ত প্রদীপ ও ছাত্র জনতার সোনালী স্বপ্ন পুরণের লক্ষ্যে ছাত্রলীগ নামে ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে রূপান্তর হয়। ১৯৭৪ সালে বাকশালের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে। শেখ মুজিবের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কার্যক্রম পরিচালনা করে ছাত্রলীগ প্রধান নামে। ১৯৮০ সালে যার নামকরণ করা হয় জাগপা ছাত্রলীগ।

পরাধীনতা ভেঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাগপা ছাত্রলীগ। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭১’র স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৭৩-৭৪’ দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২০২৪'র গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির ছাত্র রাজনীতি জাগপা ছাত্রলীগের এক গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস।

জাগপা ছাত্রলীগ ইতিহাসের এক অভিন্ন ছাত্র সংগঠন। একমাত্র জাগপা ছাত্রলীগ ১৯৭৪ সালে মুজিববাদী বাকশাল, স্বজনপ্রীতির রাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তখনকার আন্দোলন ২০২৪'র গণবিপ্লবকে সাফল্যের চূড়ায় পৌছে দিয়েছে। আজও জাগপা ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সকল সংকটময় সময়ের সম্মুখ সারির ছাত্র সংগঠন।

জাগপা ছাত্রলীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, জাগপা ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল রাজনীতি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ৭৪’র দুর্নীতি-দুঃশাসন ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম শফিউল আলম প্রধান স্বাধীন দেশে প্রথম দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সুচনা করেন। তৎকালীন মুজিববাদী শাসকগোষ্ঠির দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে ক্ষমতার দম্ভকে চুরমার করে দেন।

তিনি ছাত্র জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ভারতীয় আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা পর্যন্ত আমাদের আজাদী সংগ্রাম চলবেই।

জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আমৃত্যু আজাদী। দেশের জন্য জাগপা ছাত্রলীগের শহীদি রাজনীতি অনিবার্য। আমরা জীবন দেবো, শহীদ হবো দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কোন আগ্রাসনের জন্য হতে দেবো না।