আফাজ্জল হোসেন বাগমারা থেকে : রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মিত্র থেকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ আসনে বিএনপি’র ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তি সময়ে বাগমারার রাজনীতির সমীকরণ পরিবর্তিনে উপজেলার জামায়াতের নেতারা মনে করছেন বাগমারা জামায়াতের অবস্থান অনেক শক্তিশালী। এতে তাদের প্রার্থী নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। আর বিএনপি নেতারা বলছেন, সারাদেশে বিএনপির, জোয়ার, তার বাইরে বাগমারা থাকবে না। তাদের মতে, বাগমারার মাটি বিএনপির ঘাটি। নির্বাচনে তাদের জয় হবে বলে আশাবাদি। তবে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে দল দুইটির নেতা-কর্মীরা মাঠ দখলে তৎপর হয়ে পড়ছেন। এ আসনে ৪ জন প্রার্থী থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থীর তেমন কোন প্রভাব মাঠে নেই। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়া (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের মনোনীত উপজেলা নায়েবে আমীর ডাক্তার আব্দুল বারী সরদার (দাঁড়িপাল্লা) নির্বাচনে মূলত লড়বেন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনটি আগে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল রাজশাহী-৩। তবে বিভক্তির পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে বাগমারা উপজেলা নিয়েই একটি আসন করা হয়। এ আসনে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৭২০ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। বিগত ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন। সে সময়ে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল বাগমারা আসন। পরে আসনটিতে সাবেক বিএনপি’র সংসদ সদস্য প্রয়াত আফজাল হোসেন সরদার আমজাদকে হারিয়ে বিএনপির ঘাটি তৈরি করে। পরবর্তিতে এই আসনে ১৯৯৬ বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন সাবেক আমলা আবু হেনা।

এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আবু হেনা এমপি ছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নন নিয়ে রাজশাহী-৩ (বাগমারা-মোহনপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অধ্যাপক আব্দুল গফুর বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একবার নির্বাচিত হলেও পরের বার ২০০৮ সালে দলীয় আভ্যন্তরিন দলীয় কোন্দলেও সন্মানজনক ভোটে পরাজিত হন। ২০০৮-এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পপতি প্রকৌশলী এনামুল হক এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সহ টানা তিনবার এমপি ছিলেন। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরিবর্তন করে আবুল কালাম আজাদকে মনোনয়ন দিলে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।