উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জয়দেবপুর রেল জংশন এলাকায় দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গাজীপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত। তারা বলছে, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে জামায়াতকে জড়ানোর অপচেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতার শামিল।

মঙ্গলবার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের অবরোধ কর্মসূচির কারণে জয়দেবপুর রেল জংশন এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। অবরোধ চলাকালে রেলগেটের কয়েকটি ব্যারিয়ার ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে আন্দোলনরত প্রকৌশলীদের কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। এতে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও পুরো ঘটনাটি একটি পেশাজীবী আন্দোলনকেন্দ্রিক ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা ছিল না।

জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার, মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, অবরোধের কারণে সকাল ১০টা ১০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত জয়দেবপুর জংশন হয়ে কোনো ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ ও রেলগেট ভাঙচুরের ঘটনাটি উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের আন্দোলনের ফল, এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের জড়িত থাকার তথ্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। স্টেশন মাস্টারের এই বক্তব্যে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

এদিকে একই দিনে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে একটি বৃহৎ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির, ড. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় যোগ দিতে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা রেলগেট এলাকা অতিক্রমের সময় অবরোধের কারণে সাময়িক বাধার সম্মুখীন হন। তবে তারা কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে বিকল্প পথ হিসেবে বাজার এলাকা দিয়ে অগ্রসর হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভাস্থলে পৌঁছান। এ সময় জামায়াত বা তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের কোনো সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ টিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি সংবাদে উক্ত ঘটনাকে 'জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ট্রেন যাত্রীদের সংঘর্ষ' হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে গাজীপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গাজীপুর জেলা জামাতের আমির ডঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রেল অবরোধ, যাত্রীদের ক্ষোভ কিংবা রেলগেট ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। স্টেশন মাস্টারের বক্তব্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি জাতীয় গণমাধ্যমের এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন চরম অপসাংবাদিকতার উদাহরণ এবং রাজনৈতিকভাবে একটি পক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ৭১ টিভিকে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার, সংশোধনী প্রকাশ এবং জনসম্মুখে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।