আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার

লুটপাট নয়-উৎপাদন, বৈষম্য নয়- ন্যায্যতা নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা

‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবার পাবে মাসে আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের পণ্য

২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা থাকবে

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন

আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসময় কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ইশতেহার ঘোষণায় বলা হয়, লুটপাট নয়-উৎপাদন, ভয় নয়- অধিকার, বৈষম্য নয়- ন্যায্যতা এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। বিএনপি বলেছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন, সবার আগে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির এই ইশতেহার তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনায় তাদের পরিকল্পনার কথা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এসময় সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। ইশতেহার ঘোষণার আগে ও পরে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দলটির অঙ্গীকার তুলে ধরে একটি ভিডিও উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে নির্বাচনে জয়ী হলে দলটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। ইশতেহার ঘোষণার এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানে সম্পাদক শফিক রেহমান, মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার সম্পাদক-সিনিয়র সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকগণ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জোটের শরীক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইশেতেহারে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে জনগণের অংশগ্রহণের ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, সব ধর্মের উপাশনালয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম চালু, এই নয়টি অগ্রাধিকার বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু। লুটপাট নয়, অধিকার, বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা, এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, সেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষ্যমের অবসান হবে, আইনের ঊধের্¦ কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে, সবার আগে বাংলাদেশ।

বিএনপির ইশতেহারে ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীদের রাখা এবং রাজনৈতিক দলকে সরকারের তরফে বার্ষিক বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

প্রধান প্রতিশ্রুতি ৯টি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি। সেগুলো হলো---

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতিমাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

৫ অধ্যায়ে ৫১ দফা : বিএনপি ঘোষিত ইশতেহারে ৫টি অধ্যায়ে ৫১ দফার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এতে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতিগঠন; সুশাসন (দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ); স্থানীয় সরকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। সেখানে দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক, কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শ্রম ও শ্রমিক কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী, সামাজিক ব্যাধির সমস্যা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পররাষ্ট্রনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের তৃতীয় ভাগে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরেছে বিএনপি। এতে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, বেসরকারি খাত উন্নয়ন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সংস্কার, পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়ন, বাণিজ্য সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, শিল্পখাত, কারু ও হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, সেবাখাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও পরিবহন খাত, সুনীল অর্থনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন, রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারের চতুর্থ ভাগে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। এতে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী প্রতিষ্ঠা, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন, হাওড় অঞ্চলের উন্নয়ন, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, নগরায়ণ ও আবাসন, পর্যটন খাত এবং নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি।

পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। এতে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের নৃগোষ্ঠী, ক্রীড়া, গণমাধ্যম, শিল্প ও সংস্কৃতি, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধারের ৫ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।

উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে আরও কি কি কাজ করবেন, তাও সুবিস্তারে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ কার্যকর ও শক্তিশালী করা। তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি যে বিষয়টির প্রতি খুবই যত্নশীল, সেটি হচ্ছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। এই আইনটিকে আমরা যতটুকু সম্ভব কার্যকর করতে চাই। আমাদের দেশে এমন অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতা আছেন, যাদেরকে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে সন্তানরা দেখাশোনা করতে চায় না বা ভরণপোষণ করে না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কীভাবে এসব বৃদ্ধ পিতা-মাতার পাশে দাঁড়ানো যায় এবং কীভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করা যায়, সে ব্যাপারে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে দেশে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড ব্যবস্থা চালু করতে চান বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোটামুটিভাবে চার রকমের কৃষক আছে। প্রান্তিক কৃষক আছে। ক্ষুদ্র কৃষক আছে, মাঝারি কৃষক আছে, বড় কৃষক আছে। সরকারের হিসাব মতে বিভিন্ন জমির ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই কৃষকদেরকে ভাগ করা হয়ে থাকে। আমরা প্রথমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক পর্যন্ত যাব। এই কৃষকদেরকে আমরা যেটা করব, যেমন ধরেন একজন কৃষকের হয়ত পাঁচ বিঘা জমি আছে। এখন ওই কৃষকটি কী কী চাষ করে? আমরা যখন এই কার্ডটা তাকে দেব, এই কার্ডটা দেওয়ার প্রক্রিয়া যখন আমরা শুরু করব তখন কিন্তু সারা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যেই ডাটা আমাদের কাছে আছে, সরাসরি জমিতে চাষ করেন দেড় কোটির মতো কৃষক। আমরা এই প্রত্যেকটা মানুষকে কার্ড দেব। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা মানুষকে কোথায় কার কতটুকু জমি আছে, কে কি চাষ করছে, পুরো জিনিসটাকে একটা আমরা প্রসেসের মধ্যে, পুরো একটা সিস্টেমের মধ্যে আমরা নিয়ে আসব। আমরা যদি একজন কৃষককে অন্তত পাঁচ-সাত বছর ধরে সাপোর্টটা দিতে পারি তখন কিন্তু একটা সময় এসে সে একটা জায়গায় এসে দাঁড়াবে।

তারেক রহমান বলেছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে বিচার বিভাগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বিগত স্বৈরাচারের সময়। আমি আমার মা, আমার পরিবার, আমরা এই বিচার বিভাগের নির্যাতনের ভেতর দিয়ে গিয়েছি। তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যে কোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সেটিকে নিশ্চিত করা। কারণ আমি নিজে ভুক্তভোগী। কীভাবে বিচার বিভাগ একজন মানুষের জীবন, একটি সংসার ধ্বংস করে দিতে পারে। সেজন্য আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের সর্বো”চ চেষ্টা থাকবে যে কোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ধীরে ধীরে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে অবশ্যই এমনও পরিস্থিতি দাঁড়াবে যে কোনো একটি মানুষকে তার প্রয়োজনের জন্য, ছোটোখাটো প্রয়োজনের জন্য হয়ত ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে না। সে স্থানীয়ভাবেই তার সমস্যার সমাধান করতে পারবে। শুধু তাই নয় স্থানীয় সরকারকে যদি আমরা শক্তিশালী করতে পারি তাহলে আমরা গণতন্ত্র নিজেই কথা বলছি, গণতন্ত্রের ভিত্তিটাকে শক্তিশালী করার জন্য যে কথাটা বলছি সেটিও করতে আমরা সক্ষম হব। কারণ জবাবদিহিটা স্থানীয় পর্যায় থেকে তৈরি হবে। জবাবদিহিতা যখন স্থানীয় পর্যায় থেকে তৈরি হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হতে তখন বাধ্য। দুর্নীতি কমে আসতে তখন বাধ্য। প্রকৃতি উন্নয়ন বলতে যা বোঝায়, আইন-শৃঙ্খলা বলতে যা বোঝায় সব কিছু তখন ধীরে ধীরে ভালোর দিকে এগোতে থাকবে।

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে চাই। যেটির কাজ হবে ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এবং বিগত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বহু মানুষ যারা খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। এই মানুষগুলোকে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি, কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায় সেই ব্যাপারে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যারা শহীদ হয়েছেন, আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে তাদের নিয়ে। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, মানুষের প্রয়োজনে আমরা হাসপাতাল তৈরি করব। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার জন্য আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করব ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কার করে সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে।

তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। একজন ব্যক্তি সর্বো”চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল, সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। আমরা বলেছি, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছিল বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বিএনপি। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বিএনপি। অভিন্ন নদী ও পানি সম্পদের বিষয়ে ইশতেহারে পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সব আন্তঃসীমান্ত নদী থেকে ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএনপি কোনো ধরনের আপস করবে না। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া হবে না।

ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ সেল গঠন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দলটির ইশতেহারে। ইশতেহারের গণমাধ্যম অংশে আরও বলা হয়েছে, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষা প্রদান এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর সব ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃনিরীক্ষণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া স্বাধীন রেগুলেটরি বডি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি, জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন এবং সরকারি বিজ্ঞাপনে রাজনৈতিক পক্ষপাত দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।

ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস এবং ওয়াই-ফাই বিতরণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে করমুক্ত করা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং স্নাতকোত্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষাসহ নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে দলটি। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যেন বেকার না থাকে সেজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও ইশতেহারে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার দিতে চায় দলটি। ইশতেহারে বলা হয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী সবার জন্য পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং সারাদেশে পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশকে সবুজায়নের অংশ হিসেবে ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায় দলটি। ইশতেহারে এ নিয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর এবং ভালো ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন ও লাইব্রেরি সমস্যা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভঙ্গুর হয়ে পড়া জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নতুন সম্পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে শিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়, প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। অর্থনীতিতে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে সম্পদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ, ন্যায্য মূল্যবণ্টন ও বাজারে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। নতুন শিল্পায়ন কৌশলের আওতায় অভ্যন্তরীণ শিল্পভিত্তি শক্তিশালীকরণ, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু করা, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথাও বলা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানখাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ ও ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ সমাধান, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতায়ন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তি এবং অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, কারসাজি বন্ধ, করপোরেট বন্ড ও সুকুক চালু, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণাও আসে।

বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। দলটি বলেছে, দুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কার করা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস করবে না তারা। সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে জানানো হয়, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আলোকে প্রণীত এই ইশতেহার একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও ব্যাপক সামাজিক পরিকল্পনার প্রতিফলন। তারেক রহমান বলেন, এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠনের প্ল্যান।