বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, দেশীয় লবণ চাষিদের বাঁচাতে হলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপজেলার ৩ নং লেমশীখালী ইউনিয়ন জামায়াতের তৃণমূল কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি দেশীয় লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় লবণ শিল্পকে রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে লবণ আমদানি বন্ধ করার আহ্বান জানান। ড. আযাদ বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে এবং ইতোমধ্যে লবণ চাষ শুরু হওয়া সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় আমদানির কারণে চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার লবণ চাষিরা কঠোর পরিশ্রমে দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করেন। অথচ বাজারে কমদামে বিদেশি লবণ আসায় তাদের উৎপাদন ব্যয়ও উঠছে না। ফলে একদিকে চাষিরা লোকসান গুনছে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি লবণের সুষ্ঠু মজুত, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সর্বশেষ তিনি স্থানীয় লবণ চাষিদের স্বার্থরক্ষা, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত লবণ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। বিএনপির ‘না’ ভোটের প্রচারণার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনার পরে জুলাই সনদ রচনা করে তাতে স্বাক্ষর করেছে। বিএনপির জুলাই সনদের বিরোধীতারও সমালোচনা করে জামায়াতের এই অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপির জুলাই সনদের বিরোধীতা মূলত দেশ সংস্কারের বিরোধিতারই নামান্তর। উক্ত সম্মেলনে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি খুরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এবং ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল করিম রাজুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর আ. স. ম. শাহরিয়ার চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন, বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিন কুতুবদিয়া উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ আবু মুসা, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা ইসমাঈল হোসেন কুতুবি, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মোহাম্মদ বিন ইবরাহিমসহ বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ।