গণঅভ্যুত্থানোত্তর প্রেক্ষাপটে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণকারী সাংবাদিকদের পেশাগত ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করার হীন চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘এখন টেলিভিশন’-এর চার সাংবাদিককে গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশ করায় শোকজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে জোর করে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বিএনপিপন্থি দলদাস কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের প্রশ্নে জনমনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ মুজিব যেভাবে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিল আজকের এই ঘটনা নতুন বাংলাদেশে আরেকটি মুজিবীয় ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনা গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এক হীন অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত গণভোটে দেশের মানুষ ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কারের পক্ষে যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, বর্তমান সরকার তা মানতে অনীহা দেখাচ্ছে। একদিকে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করা, অন্যদিকে গণমাধ্যম দখল ও উচ্চপর্যায়ে দলান্ধদের বসিয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিয়ে জুলাইয়ের স্পিরিট লালনকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করা—একই সূত্রে গাঁথা।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “যারা জুলাইয়ের রক্তস্নাত আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে জাতিকে মুক্তি এনে দিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ নতুন বাংলাদেশে বরদাশত করা হবে না। আমরা অবিলম্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী পাঁচ সাংবাদিককে সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহালের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি গণভোটের প্রদত্ত গণমানুষের রায় ও জুলাই সনদের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”