নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হওয়ার কথা। কৌশলী প্রচারণা এবং প্রার্থী ইমেজে বর্তমানে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, প্রার্থী চূড়ান্তে বিলম্ব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কিছতা ব্যাকফুটে রয়েছে বিএনপি। প্রার্থী তৎপরতা, স্থানীয় জোটের সমীকরণ এবং ভোটারদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৮, ৯, ১০ ও ১১ আসনে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এই চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কারণে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন। জামায়াতের মনোনীত দুই প্রার্থী ইতিপূর্বে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার ফলে এলাকায় তাদের বিশাল ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বাকি দুই প্রার্থী পেশায় চিকিৎসক। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। ভোটারদের মতে, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হওয়ায় তারা অন্যান্যদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বিএনপি বেশ কিছু কৌশলগত ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দেরি হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে পড়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি অনেকটা ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেওয়ার মতো অতি-আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখাচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সাধারণ ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেয়ে দলীয় কোন্দল মেটাতেই বেশি সময় ব্যয় করছেন দলটির অনেক নেতা।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোটারদের চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন আর প্রতীক বা দলের অন্ধ অনুসারী নয়। গত কয়েক মাসে কিছু এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং জমি ও স্ট্যান্ড দখলের মতো অপকর্মে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটাররা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটে একটি ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা—এবার ভোট হবে দল বা মার্কার বদলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও ইমেজের ভিত্তিতে।
মাঠপর্যায়ের এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রামে একটি ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দলীয় ব্রান্ডের চেয়ে ব্যক্তি প্রার্থীর স্বচ্ছতা এবং মাঠের সক্রিয়তাকেই অগ্রাধিকার দেবেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসন (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগাম প্রস্তুতি ও কৌশলী প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু নাসের অনেকটা এগিয়ে থাকলেও নানা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকটে ধুঁকছে বিএনপি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেই জামায়াত এই আসনে ডা. আবু নাসেরকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে। ফলে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন। চান্দগাঁও, মোহরা থেকে শুরু করে বোয়ালখালীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও হাটে-বাজারে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন তিনি। স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন। ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে বেশ কঠিন সময় পার করছেন। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে ; কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে দলের মধ্যকার অনৈক্য নির্বাচনী প্রচারণায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদের চালিতাতলী এলাকায় প্রচারণার সময় তার সাথে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী সরওয়ার বাবলা গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে এরশাদ উল্লাহকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। এই ঘটনার পর নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপি এই আসনে তাদের চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনিও সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
সাধারণ ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও মাঠে উপস্থিত থাকাটা বড় ফ্যাক্টর। চান্দগাঁও এলাকার ভোটারদের ভাষ্যÑ “নাসের সাহেবকে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত কাছে পাচ্ছি। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, সমস্যার কথা শুনছেন। ভোটাররা এমন প্রার্থীকেই চায় যারা সুখে-দুখে পাশে থাকে।” বিপরীতে, বিএনপির দেরিতে মাঠে নামা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তাদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসন (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) বন্দরনগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচনী হাওয়া জমে উঠেছে। তবে এই আসনে বড় দুই শক্তির লড়াইয়ে বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফজলুল হক। অন্যদিকে, আসন পরিবর্তনের কারণে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির আবু সুফিয়ান।
দীর্ঘদিন ধরে কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনটি ভোটারদের কাছে ডা. শাহাদাত হোসেনের আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ডা. শাহাদাত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় এই আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে ; আবু সুফিয়ানকে চট্টগ্রামের মানুষ মূলত চট্টগ্রাম-৮ আসনের নেতা হিসেবে চেনে। বিগত নির্বাচনেও তিনি সেখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। হঠাৎ করে চট্টগ্রাম-৯ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় ভোটার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব কাজ করছে। গত ৫ ডিসেম্বর তার নাম ঘোষণার পর তিনি মাঠে নেমেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় প্রচারণায় অনেক পিছিয়ে থাকায় তাকে এখন সময়ের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
বিএনপি যখন প্রার্থী নিয়ে দোলাচলে ছিল, জামায়াতে ইসলামী তখন এই আসনে অনেকটা এগিয়ে গেছে ; গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ডা. ফজলুল হককে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জামায়াত। ফলে গত ৫-৬ মাস ধরে তিনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ ও বড় বড় শোডাউন করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। একজন চিকিৎসক হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় তার শক্তিশালী পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যা তাকে নির্বাচনী দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রাখছে।
এই আসনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া দল এনসিপি প্রার্থী করেছে মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরীকে। তিনি ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনে সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।
সাধারণ ভোটারদের মতে, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির ডা. শাহাদাতের যে একক প্রভাব ছিল, আবু সুফিয়ান সেই প্রভাব কতটুকু ধরে রাখতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিপরীতে, জামায়াতের সুশৃঙ্খল প্রচারণা এবং ডা. ফজলুল হকের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১০ আসন (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) : বন্দরনগরীর গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১০ এখন নির্বাচনী উত্তাপে টালমাটাল। এই আসনে মাঠের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান তার পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে মাঠে নামার চেষ্টা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে এই এলাকা থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমস্যার গভীরে তার জানাশোনা ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তরুণ এই সংগঠক দীর্ঘ সময় ধরে ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী এলাকার মাঠে-ময়দানে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে এই আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় তার প্রচারণা এখন তুঙ্গে।
বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে তার জন্য পথটি খুব একটা মসৃণ নয় ; এই আসনে প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে প্রার্থী পরিবর্তন করায় সাধারণ ভোটার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
সাঈদ আল নোমান জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেও স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। তবে তার বাবার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি এই আসন থেকে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় পুরো নগরজুড়ে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
রাজপথের আন্দোলন আর জাতীয় নির্বাচনের ভোটের রাজনীতির সমীকরণ ভিন্ন। এই আসনের ভোটাররা বলছেন, জামায়াতের হেলালীকে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে দেখছেন এবং তিনি এলাকার পরিচিত মুখ। অন্যদিকে বিএনপির সাঈদ আল নোমানকে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে তার বাবার অনুসারীদের এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিজের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত প্রমাণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম-১১ আসন (বন্দর-পতেঙ্গা) : বন্দরনগরীর অর্থনৈতিক হৃৎপি- হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর বিএনপি তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করলেও, মাঠের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতায় জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চয়ন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমে এই আসনে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তাকে সরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই আসনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। হঠাৎ এই পরিবর্তনে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমীর খসরু ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর জনপ্রতিনিধি থাকলেও ভোটের পর তাকে এলাকায় খুব একটা পাওয়া যেত না। এই ‘জনবিচ্ছিন্নতা’ বর্তমানে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি যখন প্রার্থী নিয়ে দোলাচলে, জামায়াতে ইসলামী তখন এই আসনে তাদের অবস্থান সুসংহত করে ফেলেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্র থেকে সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলমের নাম চূড়ান্ত করার পর থেকেই তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে তার সমর্থকদের শক্তিশালী সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা এবং তিনবার জেল খাটার ঘটনা তাকে ভোটারদের কাছে একজন ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমনকি ক্রসফায়ারের হুমকির মুখেও মাঠ না ছাড়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি করেছে।
জুলাই বিপ্লবের পর এই আসনে এনসিপি থেকে এরফানুল হকের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ। তিনি এর আগে জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক পরিচয় এবং এনসিপির তরুণ ভোটারদের ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত কতটুকু প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়।
চট্টগ্রাম-১১ আসনটি মূলত বন্দর ও শ্রমিকনির্ভর। এখানকার ভোট মূলত তিনটি বড় ব্লকে বিভক্ত ; শ্রমিক ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার। মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ভোটার। পারিবারিক জামায়াত-শিবির সমর্থক। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রার্থী শফিউল আলম দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি ব্লকের সঙ্গেই নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের মতে, “শফিউল আলমকে নিয়মিত এলাকায় দেখা যাচ্ছে। তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এখনো ঠিকমতো মাঠেই নামেননি।” ভোটারদের এই পর্যবেক্ষণ আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলে বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় এগিয়ে গেছে জামায়াত এমনটাই বলছেন ভোটাররা।