ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী চাকসু’র সাবেক ভিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেছেন, একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে একটি পরিবারের পক্ষে এককভাবে গড়ে তোলা কষ্টসাধ্য। ‘‘প্রতিবন্ধীদের গড়ে তুলতে সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে’’। এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্যতম একটি অংশ। প্রতিবন্ধীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তাদেরকে জাতীয় সম্পদে রূপ দেওয়া যায়। তাদের রয়েছে অভাবনীয় প্রতিভা এবং মেধা। যার দৃষ্টান্ত ইতোপূর্বে অনেকেই স্থাপন করেছে। প্রতিবন্ধী না বলে প্রতিবন্ধকতায় আটকে আছে বলতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্টিফেন হকিং যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে ছিলেন অথচ তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী। স্টিফেন হকিং ফিজিক্যালভাবে একটু দুর্বল হলেও নিজের প্রতিভা, মেধা বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন। এটি তিনি এককভাবে পারেননি। বরং তার পরিবার, তার সমাজ তাকে এই কাজটি করতে সহযোগিতা করেছেন। যার ফলে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী হতে পেরেছেন। আমরাও যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা আমাদের শিশুদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তবে আমাদের শিশুরাও বিশ্বের বুকে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১০ আসনের উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের ‘‘অপ্রতিরোধ্য সম্মাননা” প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা শিশুদের প্রতিবন্ধী বলে অবহেলা, অযত্ন না করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হলেও দিবস পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। প্রকৃত অর্থে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা শিশুদের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আগামীতে ‘‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা শিশুদের বিকাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে’’। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১০ আসনের জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিতকরণে কাজ করবেন। প্রতিবন্ধী ভাতার নামে সামান্য ভাতা দিয়েই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ নয়। বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদাবান করে গড়ে তোলা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের নারী সমন্বয়ক ড. ফেরদৌস আরা খানম বকুল এবং সৃজনশীল নারী ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সেক্রেটারি রওশন আরা। নিউ মার্কেট থানা আমীর মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদের পরিচালনায় স্থানীয় সাইয়্যেদনা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত অপ্রতিরোধ্য সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধানমন্ডি থানার সাবেক আমীর এডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আখতারুল আলম সোহেল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী সেলিনা পারভীন, কামরুন্নাহার তুরানী ও উম্মে জয়নাব। কলাবাগান পূর্ব থানা আমীর জাহিনুর রহমান, ধানমন্ডি থানা সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান। সভা শেষে, উপস্থিত শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সকলকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট, আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
এদিকে সোমবার রাতে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খিলগাঁও মধ্য থানার (৭৪ নং ওয়ার্ড) উদ্যোগে স্থানীয়দের সঙ্গে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৯ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম। ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ৭৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এডভোকেট ফারুক, থানা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, স্থানীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা বায়জিদ প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে খিলগাঁও মধ্য থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।