ইসলাম একটি শক্তিশালী, গতিশীল, শাশ্বত, মজবুত ও সার্বজনীন জীবন বিধান। এ বিধান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এসেছে; তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তিলাভ করতে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তনে সকলকে ময়দানে অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা আয়োজিত প্রাক্তন ও বর্তমানদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিবিরের বিয়ানীবাজার উপজেলা দক্ষিণের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শাখা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ১০নং মুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ আল মামুন, বাংলাদেশ চারুশিল্পী পরিষদের সেক্রেটারি মুফাচ্ছির আহমেদ ফয়েজী, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ফয়সাল আহমদ, ছাত্রশিবিরের সিলেট জেলা পূর্বের অফিস সম্পাদক আদিলুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর শাখার সভাপতি মুনিবুর রহমান পাভেল, উপজেলা উত্তর শাখার সাবেক সেক্রেটারি কামরুল হাসান লোদী, সুইডেন প্রবাসী ছাব্বির আহমদ শিপু, জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণ মুড়িয়া ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল হক, ছাত্রশিবিরের সিলেট জেলা পূর্বের এইচ আরডি সম্পাদক আহবাব হোসেন মুরাদ, পশ্চিম শাখার সভাপতি আব্দুল মুমিন ও কলেজ শাখার সভাপতি ফাতেহুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আবুল খায়ের ও ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি রুকন উদ্দিন প্রমূখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, পবিত্র কালামে হাকীমে ইসলামকে একমাত্র ও অদ্বিতীয় জীবন বিধান হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদর্শ কেউ পছন্দ করুক আর না করুক তা সকল আদর্শের ওপর বিজয়ী করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ তা’য়ালার ঘোষণা অনুযায়ী এ ভূমণ্ডলে শুধু ইসলামই বিজয়ী আদর্শ হিসাবে টিকে থাকবে, আর সকল বাতিল আদর্শ পরাভূত হবে। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতে কোন জালিম, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও আল্লাহদ্রোহী শক্তি দুনিয়ায় টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউন, নমরূদ, হামান, আবু জাহেল, আবু লাহাবরা দুনিয়াতে অনেক পরাক্রমী থাকলেও হক্বের কাছে তাদেরকে রীতিমত পরাভূত ও নিশ্চিহ্ন হতে হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনাও টিকতে পারেনি বরং তাকে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়ে দলবলসহ প্রতিবেশী দেশে পালাতে বাধ্য হতে হয়েছে। শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভবিষ্যদ্বাণী শতভাগ সত্য হয়েছে। মূলত, পৃথিবীতে হক্ব-বাতিলের দ্বন্দ্বই এক অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা। তাই বাতিল শক্তির অপতৎপরতা মোকাবেলায় আমাদেরকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সকলকে একদফায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা দুনিয়াতে আল্লাহ তা’য়ালার প্রতিনিধি। বিশ্বনবী (সা.) আমাদের নেতা। মূলত, আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো আমাদের দায়িত্ব। আর ইসলামী আন্দোলনের উপর জুলুম-নির্যাতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মাত্র। ইতিহাসের সে ধারাবাহিকতায় পতিত স্বৈরাচারি ও ফ্যাসিবাদী শক্তি সাবেক আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষ নেতাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে নিজেরাই নিজেদের কবরস্থ করেছে। মূলত, জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে বা ফাঁসি দিয়ে অতীতে কোন আদর্শকে নির্মূল করা যায়নি, আর যাবেও না। যারা এ অন্যায় বিচার কাজে সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এখন তাদের বিচার করার করার সময় এসেছে। আমরা তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি দেশ ও জাতিসত্তা বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অন্যথায় আমাদের সকল অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে।
মহানগরী আমীর বলেন, মূলত মানুষের তৈরি জীবনবিধান মানুষের জন্য কোনভাবেই কল্যাণকর নয়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে দেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসনের পরিবর্তে মানবরচিত বিধান দিয়ে দেশ শাসনের কারণেই জনগণের ওপর নির্মম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু ইসলামের অগ্রযাত্রা কোনভাবেই থামানো যায়নি বরং জুলুম-নির্যাতনের পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন রীতিমত ইসলামপন্থীদের বাংলাদেশ। ইসলাম বাংলাদেশের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী আদর্শ। তাই এ অবস্থাকে টেকসই ও মজবুত করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দাওয়াত সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করতে হবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে ইসলামের সুমহান আদর্শের বাণী। তাহলেই আগামীর বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে ইসলামের বাংলাদেশে পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি ইসলামকে বিজয়ে করার আন্দোলনে সকলকে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।