উপজেলা নির্বাচনের দিন তারিখ বা তফসিল ঘোষণা না হলেও রূপসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্যানা-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে। প্রচারণা থেমে নেই সোশ্যাল মিডিয়ায়ও। তবে সরকার আদৌ উপজেলা নির্বাচন দেবে কী না বা কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা প্রদান উপলক্ষে প্যানা-পোস্টার সাঁটিয়ে প্রচারণা শুরু করে এসব প্রার্থীরা।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। অধিকাংশ প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, বৈঠকসহ উপজেলার কোথাও কেউ মারা গেলে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। প্রত্যেকের উদ্দেশ্য জনসমর্থন আদায় করা।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, বিসিবির পরিচালক ও আইচগাতি ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান খান জুলফিকার আলী জুলু।

এছাড়া প্রচার-প্রচারণায় মাঠ গরম করছেন জেলা বিএনপির সদস্য, রূপসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান টুকু, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা লবিবুল ইসলাম। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল্লাহ যোবায়ের।

বিসিবি পরিচালক বিএনপি নেতা খান জুলফিকার আলী জুলু বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমাকে নিয়েও অনেকে প্রত্যাশা করছেন। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দল যাকে মনোনয়ন দেবে দলের সবাইকে তার হয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করি দলের হাইকমান্ড সৎ, দক্ষ ও ক্লিন ইমেজ দেখে প্রার্থী দেবে।’ সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, আমি ১৯৮৪ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করি। ১৯৮৭ সালে সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রূপসা থানা ছাত্রদলের সভাপতি, খুলনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও রূপসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হই। বর্তমানে জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া ৯০ ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। আগামী রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজ করছি। নির্বাচিত হলে শিশুদের জন্য উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা বেকার তরুণ তরুণীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে বেকারত্ব বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখবো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো আপোষ করিনি। দীর্ঘ ৪ দশকের রাজনৈতিক জীবনে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছি এবং আমৃত্যু চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের প্রতি আমার আনুগত্য এবং বিশ্বস্ততার পুরস্কার স্বরূপ মনোনয়ন দান করবে বলে আশাবাদী।

রূপসা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জিএম কামরুজ্জামান টুকু বলেন, ‘সারা জীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। জনগণের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। নির্বাচিত হলে রূপসি রূপসাকে একটি আধুনিক, দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজমুক্ত ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ তিনি অবহেলিত রূপসা উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। দল এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় তাই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া যেহেতু তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করে আসছি সেহেতু দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের আমাদের প্রতি অনেক চাওয়া-পাওয়া ও প্রত্যাশা রয়েছে। সে কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছি। প্রচার প্রচারণায় এমনও প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে যারা সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে তাদের এলাকায় নির্বাচিত করতে পারেনি। তবে আমার এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল ভাইকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছি।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রূপসা উপজেলা জামায়াতের আমীর ও খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা লবিবুল ইসলাম বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা, ইনসাফ, বৈষম্যহীন ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার মাধ্যমে এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে প্রার্থী হচ্ছি। আশা করি নির্বাচিত হলে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবো ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর প্রার্থী ও দলটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ জুবায়ের বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রূপসাবাসীর কাক্সিক্ষত সেবা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছি। যে কারণে রূপসাবাসী আমাকে বার বার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে। জনগণের দোয়া ও ভালোবাসায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে চাঁদাবাজ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা পালন করবো। এছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু বলেন, ‘সারা জীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবুও জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথ ছাড়িনি। জনগণের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। নির্বাচিত হলে রূপসাকে আধুনিক, দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। এ উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩শ’ ১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৮১ হাজার ১শ’ ৭ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ৮৪ হাজার ১শ’ ৯১ জন। ভোট কেন্দ্রে রয়েছে ৬৬টি।