বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে, "ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরদের মোকাবেলায়, আমাদের করনীয়" শীর্ষক এক আলোচনা সভা পতাকা উত্তলনের মাধ্যমে শুরু হয়।

আল্লামা আবু জাফর কাসেমী বলেন, ফ্যাসিবাদ- ইসলাম, দেশের জনগণ ও মানব সভ্যতার দুষমণ তাই পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ও তার উত্তর অধিকারীরা আর জেন ক্ষমতায় ফিরে আসতে না পারে, তার জন্য ফ্যসিবাদ বিরোধী সকল অংশিজনের নিবিড় ঐক্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই. তিনি টেকসই ঐক্যের ফরমুলা বর্ণনায় বলেছেন, মহান বুযুর্গ আমীরে শরীয়ত হজরত মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.বলেছেন "দুনিয়ার মুসলিম-এক হও নেক হও " কেননা নেক না হয়ে এক হলে সেই ঐক্য কখনো টেকসই হয়না। আল্লামা আবু জাফর কাসেমী বলেন ফ্যাসিবাদের দোসর সুবিধা ভোগীদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন ফলপ্রসু হবার নয়, ফ্যাসিবাদ মোকাবেলাও সম্ভব নয়। তিনি ফ্যাসিস্ট প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক আইন ও কৌশলগত দায়িত্ব আছে বলে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন ফ্যাসিস্টদের সাথে সাথে তাদের সহযোগীদের ও কমিশনের নিবন্ধন সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা সংগঠন এর জন্য দেশের জন্য গনতন্ত্রের জন্য ফ্যাসিস্টদের হাতে যারপর নাই জেল জুলুম গুম আয়নাঘরে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তারাই মুলত কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার অধিকার রাখে । কমিশনকে ভুলে গেলে চলবেনা আইনকে সুবিধা মতো ব্যাক্ষা করে ফ্যাসিস্ট এর সহযোগীদের সুবিধা দিলে তাদের হাত ধরেই অচিরেই আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে,

যা সভ্য জাতির জন্য কাম্য নয়। কমিশনকে জনগণ আকাংখার ন্যায় বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাও.আব্দুর রব ইউসুফী বলেন ঐক্য হয় ঐক্য ভাঙে এটাই রাজনীতির চিরন্তন নিয়ম, কিন্তু খেলাফত এর পবিত্র কনসেপ্টকে মাধ্যম করে দেশের সকল ইসলাম ও জাতীয়তাবাদী শক্তির টেকসই ঐক্য সম্ভব যারদ্বারা ফ্যাসিবাদকে চিরতরে প্রতিহত করা সম্ভব। সংগঠন এর উপদেষ্টা বিশিষ্ট কবী ও সাহিত্যিক জনাব মাহমুদুল হাসান নিজামী বলেন আমাদের জাতিসত্বা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জানতে হবে পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হতোনা বাংলাদেশ না হলে এখনো এদেশে ভারতের মতো নামাজ পড়লে অপদস্ত হতে হতো। গরুর গোস্ত খেলে হত্যা বিদ্বেসের স্বীকার হতে হতো।পাকিস্তান হওয়ার আগে এই বাংলাদেশেও এই পরিস্থিতি প্রচলিত ছিল। খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন রাজনীতিতে ন্যায়বিচার থাকা বাঞ্চনীয়। তিনি বলেন জামায়াত আওমীলীগের সাথে থাকলে বিশুদ্ধ হয়ে যায় বিএনপির সাথে থাকলে প্রশিদ্ধ হয়ে যায়, আর যুগপথ আন্দোলনে থাকলে মহাঅশুদ্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী এর সহকারী-সেক্রেটারী মাও.আব্দুল হালিম বলেন মহান বুযুর্গ হজরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. আমাদের বাল্যবেলা হতে শ্রদ্বেও ছিলেন তখন তাহার বটগাছ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার করেছি, আমাদের মরহুম কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ইউসুফ আলী ইন্তেকাল করলে ফ্যাসিস্ট এর ভয়ে কেউ তাহার জানাজার নামাজ পড়ানোর সাহস করেনী, কিন্তু বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মরহুম আমীরে শরীয়ত আল্লামা জাফরুল্লাহ খান রাহ. ইউসুফ সাহেব রাহ.এর জানাজার নামাজ পড়িয়েছিলেন। খেলাফত আন্দোলন এর মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম সাহেব বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের স্বিকার। তিনি অনেক জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। তার নেতৃত্বে খেলাফত আন্দোলন এগিয়ে যাক আমরা এটা চাই।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন দেশকে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে হলে তাহার সকল সহযোগীদের চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে, যাতে করে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনে অপাংক্তেও হয়ে যায়।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমীর সভাপতিত্বে যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর এর আমীর মাওলানা মোহাম্মাদ হোসাইন আকন্দের সঞ্চলনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, খেলাফত মজলিস এর নায়েবে আমীর মাও. আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির (ঢা.ম.দ.) এর যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মনির হোসাইন চেয়ারম্যান, নেজামে ইসলাম পার্টির, প্রচার সচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুদ খান, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ আব্দুল আহাদ নুর, মোঃ আতাউল্লাহ খান, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ আবুল কাসেম মজুমদার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মোঃ আজম খান, অন্যতম নায়েবে আমীর মাও. আবুল কাশেম কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাদের কাসেমী. মাওলানা বজলুর রহমান জিহাদী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আসাদুল্লাহ জাকির, আলী মাকসুদ মামুন খান.খেলাফত যুব আন্দোলন এর সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মাহবুবুল্লাহ পীর সাহেব টেঙারচর, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ, ছাত্র নেতা হাফেজ আবু দারদা. হাফেজ হাবিবুর রহমান ও হাফেজ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।