আল হেলাল, নালিতাবাড়ি (শেরপুর) : আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুর-২ ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষা (নকলা-নালিতাবাড়ি) আসনে বইছে নির্বাচনী পাহাড়ি গরম হাওয়া। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়া আসছে প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীদের তৎপরতা ততই বাড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
এছাড়া গানের তালে তালে ভোট চাওয়া হচ্ছে নিদিষ্ট প্রতিকের পক্ষে। তবে ইসির নতুন নিয়মে এবারের নির্বাচনী প্রচারনায় পোস্টার না থাকায় প্রার্থী ও সমর্থকরা কৌশলগতভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই একটু বেশিই গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওঃ মুফতি আব্দুল্লাহ আল কায়েস (হাতপাখা) আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবিপার্টি), মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবদুল্লাহ বাদশা (ঈগল) প্রতিকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনী জনসভা, পথসভা, পরামর্শমূলক সভা গণসংযোগ মিছিল উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ আসনের দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা। তবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণায় সাধারন মানুষের ভাবনার একটি গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিশিষ্ট জনেরা। ভোটের সমীকরণের আগেই প্রচারণার সমীকরণের মাঠ কাঁপিয়ে তুলেছেন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রচারনা। প্রার্থী ও সমর্থকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জয়ের আশাবাদী।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। জাহেদ আলী চৌধুরীর পুত্র তারুণ্যের আবেদন ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বড় শক্তি। তাছারাও দীর্ঘ ১৭ বছর শত প্রতিকূলতার মাঝেও নানাভাবে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন তার দাবি। পরবর্তীতে গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুনদের হাতে গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তরুনদের একাংশ জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা, নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নকলা ও নালিতাবাড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৪,৪০,০৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১৫,৭৮৬ এবং নারী ভোটার ২,২৪,২৪৯ জন। এই আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। নির্বাচনী প্রচারণায় বিজয়ের ধ্বনি শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে উঠান বৈঠক গুলো। ভোটারদের সমীকরনেও দারুন, সাবেক সংসদ প্রয়াত জাহেদ আলীর এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি এমপি থাকাকালীন আসনটিতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আসনটিতে বিএনপির গ্রাম-গঞ্জের হাট, বাজার, পাড়া মহল্লায় এমনকি চা স্টলে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। নকলা ও নালিতাবাড়ি ২টি উপজেলাতেই সাধারণ মানুষের ভাবনায় ঠিক একই চিত্র ভেসে ওঠে। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় প্রয়াত হ্যাভিওয়েট জাহেদ আলী চৌধুরীর পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী অনেকটাা সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরও একই ভাবনা। সব মিলিয়ে আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ি) আসনে বইছে নির্বাচনী পাহাড়ি গরম হাওয়া। এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারদের উপর নির্ভর করেই জয়ের আশা।