জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আসন সমঝোতার সময় খুলনার তিনটি আসনে নিজেদের ‘ভালো অবস্থান’ দাবি করেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে এ ক্যাটাগারির আসন দাবি করা হয়েছিল খুলনা-৩ ও খুলনা-৪ আসনকে। এর মধ্যে খুলনা-৩ আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ইসলামী আন্দোলনের। দলটির দাবি ছিল, খুলনা-৩ আসনে হাতপাখা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। এমন অনেকগুলো আসনে টানাপোড়েনের জের ধরে ইসলামী আন্দোলন ১১ দল থেকে বের হয়ে পৃথক নির্বাচন করেন। নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জয়ের আশায় থাকা প্রতিটি আসনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের। খুলনা-৩, খুলনা-৪ সহ খুলনার সবকটি আসনেই জামানত হারিয়েছেন দলটির নেতারা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খুলনার ৬টি আসনে ৫টিতে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। আসনগুলোতে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও চরমোনাইয়ের খলিফা, খুলনা মহানগর আমিরসহ শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। কিš‘ দলটির একজনও এতো ভোট পাননি। অনেক আসনে আধা শতাংশ ভোটও পাননি।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে খুলনা-১ আসনের মো. আবু সাইদ ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, খুলনা-২ আসনে দলের মহানগরী সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ৭ হাজার ২৯৮ ভোট, খুলনা-৩ আসনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, খুলনা-৪ আসনে দলটির মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ শেখ ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী আছাদুল্লাহ ফকির ২ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

খুলনা-২ আসনে দলের মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ বলেন, ‘সারাদেশে মানুষের মধ্যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। তাদের বোঝানো হয়েছে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জোট এখনও রয়েছে। যে প্রতীকে ভোট দিবেন হাতপাখা পেয়ে যাবে। সরলমনা মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়েছে। যার কারণে সারাদেশে হাতপাখা হেরে গেছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা পরাজিত হয়ে আসনগুলোতে বিএনপির জয়ের পথ সুগম করেছেন। ইসলামী দলগুলোর জোট থাকলে অনেক আসনে বিএনপির জয় কঠিন হয়ে যেত।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসইন ১৩ হাজার ৬৩২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ওই আসনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এই ভোট না কাটলে অর্থ্যাৎ জোট অক্ষুন্ন থাকলে আসনটিতে বিএনপির জয় কঠিন হতো। একইভাবে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ে ভূমিকা রেখেছে ইসলামী আন্দোলনে প্রার্থীর পাওয়া ৫ হাজার ৭০৫ ভোট। ওই আসনে জামায়াত পরাজিত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটে। জোট থাকলে এই ভোটও বাড়তো। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন ২ হাজার ২০৮ ভোটের ব্যবধানে। অবশ্য এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছিল না। তারা ভোট দিয়েছেন অন্য প্রার্থীকে।