বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘‘জুলাই সনদ বাতিল করে নব্য ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে”। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য খারাপ বলেই সরকার জুলাই অধ্যাদেশ সহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০ টি অধ্যাদেশ বাতিলের পথে হাটছে। আওয়ামী লীগের শরীক দলের নেতারা যেভাবে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে একই ভাবে বিএনপির শরীক দলের কয়েকজন নেতা একই ভূমিকা পালন করছে। তারা যেমনি সরকারের মঙ্গল চায় না, তেমনি দেশ ও জাতির মঙ্গলও চায় না। তারা চায় সরকারকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা লুটে নিতে। তাই সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকারের যেকোন কার্যক্রমে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে। জামায়াতে ইসলামী কেবলমাত্র সংসদের বিরোধীদল নয় বরং জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, আদর্শিক ও দেশপ্রেমিক একটি সংগঠন।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহজাহানপুর পূর্ব থানার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মুহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল খালেক, শাহাদাত হোসেন, এস এম আজিম উদ্দিন, নাহিদ জামাল প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও জনশক্তি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডেমরা মধ্য থানার উদ্যোগে শুক্রবার সকালে স্থানীয় ক্লাব/সামাজিক সংগঠনের নেতৃবন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি (ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য) মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, আমাদের তরুণ যুবসমাজের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশ। তরুণ যুব সমাজ ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব সহ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু অতীতের কোনো সরকার যুবসমাজের জন্য কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহন করেনি। যার ফলে বহু তরুণ কর্মহীন হয়ে মাদকের দিকে ধাবিত হয়েছে। অতীতের সব সরকার যুবকদের বেকার ভাতার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভাতাও দেয়নি, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেনি। জামায়াতে ইসলামী যুব সমাজের জন্য কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে। ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত করতে তিনি স্থানীয় সকল সামাজিক সংগঠন ও ক্লাবের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় অংশগ্রহনকারী সকল সামাজিক সংগঠন/ক্লাবের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেমরা মধ্য থানা আমীর ও ৬৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী, থানা সেক্রেটারী হাসান মুহাম্মদ শিবলী, ছাত্রশিবির ডেমরা উত্তর থানা এইচআরডি ও অফিস সেক্রেটারী মুজাহিদুল ইসলাম, যুব নেতা নাসির সোহেল, আলমগীর হোসেন, কাম্রুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা লুবাব, ফয়সাল, মুন্না, সামাজিক সংগঠন কাফেলা’র সভাপতি মাইনুল হক সাকিব, রেইনবো ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ হোসেন রিজভী, রসুলনগর যুব সংসদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কুড়েঘর স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, সম্প্রীতি বন্ধনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুমন, ফ্রেন্ডস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি ইয়াসিন রনি, ভাই-বন্ধু সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, চেতনা’র সেক্রেটারী মো. মাসুম বিল্লাহ, প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার সেক্রেটারী আহমেদ আব্দুল্লাহ রুশান, পাথরঘাট মানবকল্যাণ সোসাইটি’র সভাপতি ওমর খৈয়ম নেওয়াজ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে, ন্যাশনাল ফিজিওথেরাপি ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি। ন্যাশনাল ফিজিওথেরাপি ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ডা. এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন পেশাজীবী জোন-৪ এর পরিচালক আবু ওয়াফি এবং এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আশরাফ উদ্দিন আহম্মদ। ন্যাশনাল ফিজিওথেরাপি ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. রবিউল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ফিজিওথেরাপি ফোরামের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ। এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি বলেন, চিকিৎসকদের অবদান অনস্বীকার্য। আন্দোলনে আহতদের সু-চিকিৎসা না দিয়ে হাত-পা কেটে দিতে ডাক্তারদের নির্দেশ দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা। কিন্তু ডাক্তারেরা হাসিনার সেই অন্যায় নির্দেশ মানেনি। তারা আহতদের সুস্থ করে তুলতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এখনো আহতদের সুস্থ করে তুলতে ডাক্তারদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকেরা এই ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখতে পারছে। তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাতিল করা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের এই অপচেষ্টা ছাত্র-জনতা সফল হতে দেবে না। সরকার ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বলপ্রয়োগের চেষ্টা করতে পারে তাই ছাত্র-জনতার পাশে থাকতে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।