“জাগো যুবক, বদলে দাও সমাজ”এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো প্রাণবন্ত ছাত্রযুব সমাবেশ। তরুণদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে সচেতন ভোট, নৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে উঠে আসে নতুন প্রত্যাশা।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন যারা অতীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা থামাতে চেয়েছিল, ইতিহাস প্রমাণ করেছে তারাই পিছিয়ে গেছে। আমাদেরকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা দলগুলো আজ হেলিকপ্টারযোগে ভারত পালিয়ে গেছে। আমাদের প্রজন্ম কোনো ফ্যাসিবাদি শক্তি, কোনো রক্তচক্ষু বা আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করে না; আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছে মাথানত করি। বিগত সময়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা সবসময় লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ, যেখানে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব অন্যায় ও অত্যাচার দূর করবে। আমরা চাই হিংসা ও কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বন্ধ হোক, রাজনীতিতে উদারতা ও সহনশীলতা থাকুক। জাতির সংকট মুহূর্তে যুবসমাজের দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়, এবং সততা, ন্যায় ও আদর্শের পথে ঐক্যবদ্ধ তরুণ শক্তিই জাতিকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে।
প্রধান আলোচক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন।
মাদক আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়াই হবে আমাদের প্রথম কাজ। কর্মসংস্থানের সংকট দূর করতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন গড়ে তোলা হবে। যুবকদের শক্তি সৎ নেতৃত্বের পেছনে কাজে লাগালে কাপাসিয়া দেশব্যাপী উন্নয়নের অনন্য মডেল হয়ে উঠবে।
তিনি কাপাসিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সংকট, কর্মসংস্থান ঘাটতি, মাদক চাঁদাবাজি সন্ত্রাসের বিস্তারসহ নানা বাস্তব চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, গত দুই দশকে তিনি ৬৬টি টিউবওয়েল, ৩১টি গভীর নলকূপ, ৫১ পরিবারে টিন, ২২টি আধুনিক ওযুখানা শৌচাগার, শতাধিক মসজিদে সহযোগিতা, খাদ্য ও পোশাক সহায়তা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছেন। এছাড়া মাদক ও অপরাধ দমনে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাঁকে দায়িত্ব দিলে তিনি ১৭ দফা উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন, যার মধ্যে রয়েছে কাপাসিয়া পৌরসভা গঠন, জিরো-ক্রাইম কমিউনিটি, আধুনিক ২০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শিল্প উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, বিদেশগামীদের ভাষা শিক্ষা, ক্যারিয়ার হাব, কৃষি আধুনিকায়ন, পর্যটন কেন্দ্র, মিনি স্টেডিয়াম, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রধান সড়ক ও রাস্তা সংস্কার–প্রশস্তকরণ, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সোলারইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস ও মহিলা মার্কেট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ফরহাদ মোল্লাহ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা সেফাউল হক, নায়েবে আমীর, গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী; মাওলানা কাজিম উদ্দিন, নেতা, কাপাসিয়া উপজেলা ইসলামী আন্দোলন; মাওলানা সানাউল্লাহ, আমীর, নরসিংদী জেলা জামাত; এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস জনাব এস এম ফরহাদ, গাজীপুর মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজা রেজাউল ইসলাম, গাজীপুর জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, এডভোকেট সাদেকুজ্জামান এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এস এম ফরহাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন-গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে ভুল নেতৃত্ব নির্বাচনের কারণে। ভুল মানুষকে ভোট দিলে তার দায় জনগণের ওপর পড়ে। তাই বিবেকের ভোট দিন এবং অন্যায়, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকুন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজপথ সব জায়গায় আমরা অন্যায়ের লাল কার্ড দেখিয়েছি, ভবিষ্যতেও যুবসমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক সংস্থা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাপাসিয়া উপজেলা শাখা ঘোষণা করে—মাদকমুক্ত কাপাসিয়া, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যুববান্ধব সমাজ গঠন এবং সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনে জনগণকে সচেতন করা তাদের মূল লক্ষ্য।
উপস্থিত হাজারো তরুণ-যুবকের উদ্দীপনায় সমাবেশটি কাপাসিয়ার পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্বের নতুন প্রত্যাশা ছড়িয়েছে।
চাঁদাবাজির রাজনীতি চলতে দেয়া হবেনা -শিবির সভাপতি জাহিদুল
পাবনা জেলা ও সাঁথিয়া উপজেলা সংবাদদাতা : ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আমুল পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বিশেষ একটি মহলের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। কেউ কেউ জুলাইকে ৭১ এর মত ব্যবসায়ীক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। জুলাই আন্দোলনকে ক্রেডিটের রাজনীতি করতে গিয়ে জুলাইয়ের স্পীডকে তারা হারিয়ে ফেলছে। জুলাইয়ের স্পীডকে তারা বিক্রি করে দিচ্ছে।
গত ৪ ডিসেম্বর রাতে পাবনার সাঁথিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে আয়োজিত বিশাল ছাত্র ও যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাইকে তারা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামাই করতেছে। আজকে সচিবালয়ে মন্ত্রনালয়গুলোতে যান এখনো দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। এজন্য কি শহীদরা জীবন দিয়েছে এজন্য কি শহীদ পরিবারে আজও কান্না চলছে। জুলাইয়ের পর আবার বাংলাদেশে দুর্নীতি চলবে এটা হবে না। আমরা বলতে চাই আপনারা ভালো হয়ে যান। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। ইতিহাস বেশি দূরে নয় অনেক কাছেই রয়েছে। বাংলাদেশে আর কোন সন্ত্রাসবাদ চলবে না। আর চাঁদাবাজির রাজনীতি চলবে না। দুর্নীতির রাজনীতি চলবে না। হত্যা করার রাজনীতিও চলবে না। পাথর মেরে মানুষ হত্যা করা এ রাজনীতিও চলবে না। সিলেট থেকে পাথর নিয়ে খেয়ে ফেলবেন এ রাজনীতি আর চলবে না।
শিবির সভাপতি বলেন, আমরা চাই কাঁদা ছুঁড়াছুরির রাজনীতি বন্ধ হোক। আপনি নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে হাজির হোন। দেশের মানুষের জন্য কি করবেন এটা নিয়ে হাজির হোন। বাংলাদেশে সৎ মানুষের রাজনীতি চলবে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালে লগি-বৈঠার মাধ্যমে হত্যা করে লাশের উপর নৃত্য করেছিল। এরপর ক্ষমতায় এসেই দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যা করেছে হাসিনা। দিল্লির কাছে দেশকে ইজারা দিতে এসব হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। শাপলা চত্বরে আলেমদের গণহত্যা করেছে। জুলাইতে আবাবিলের মত সব শ্রেণীর লোক পাঠিয়ে হাসিনাকে পতন করেছে। সব শ্রেণীর মানুষ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। জুলাই কোন হঠাৎ কোন ঘটনা নয়। এটি বহু দিনের জাগরণ ছিল। জীবন দিবো কোন বাতিলের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আদর্শিক ভিত্তি থেকে জুলাই সংগঠিত হয়েছে।
নাজিব মোমেনকে উদ্যেশ্য করে তিনি বলেন, নাজিবুর রহমান মোমেন শহীদের উত্তরসূরী। তিনি তরুণ প্রজন্মের আইকন। তিনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিবেন। নাজিব মোমেন ভাইকে দাঁড়িপাল্লায় বিজয়ী করতে হবে। যাতে দেশে ন্যায় ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। আদালত পাড়ায় কোন ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না। বৈষম্য থাকবে না, বেকার থাকবে না। পেছনের গ্লানী মুছে ফেলে সামনের দিকে আগাতে হবে। নতুন প্রজন্মের চাহিদাতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে রাজনীতি চলবে না। যারা পিছনের রাজনীতি ফিরে আনার চেষ্টা করবেন তারা প্রত্যাখান হবে।
বিশেষ অতিথি ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ। ডাকসু, রাকসু, জাকসু এবং চাকসুতে ইনসাফের প্রতিনিধিরা বিজয়ী হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার জন্য মুখিয়ে আছে। ব্যারিস্টার মোমেন ভাই তরুণদের আইকন। তিনি পাবনার সাঁথিয়াকে বাংলাদেশের রোল মডেল করতে চায়। মোমেন ভাই ইনসাফের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ছাত্র এবং যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মোমেন ভাইকে বিজয়ী করতে হলে দল, মত,জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে উদেশ্য করে বলেন, আপনারা জনগণের আকাক্সক্ষা বুঝতে চেষ্টা করুন। যারা পিছন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসতে চান তাদের অবস্থা ফ্যাসিস্টদের চেয়েও ভয়ংকর হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, পাবনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ সাঁথিয়া উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আনিসুর রহমান সাঁথিয়া পৌর আমির মাওলানা আব্দুল গফুর প্রমুখ।