বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী হওয়া আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল সোমবার বিকালে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার পরে দোতলায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের যার যতটুকু অবস্থান আছে সেখান থেকে আসুন আমরা আমাদের দেশটাকে নতুন গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা সচেষ্ট হই। কোথাও যদি রাস্তায় এমনি কাগজ পড়ে থাকে, ময়লা হয়ে থাকে, তখনই সেটাকে আমরা সরিয়ে দেবো। এভাবে ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে দেশটাকে গড়ে তুলি।
তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এখন সকলকে অনুরোধ করব, দ্রুত রাস্তাটাকে খালি করে দিন, যাতে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে পারে। সকলে ভালো থাকবেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন।
তিনি বলেন, আজকে এখানে আমাদের কোনো অনুষ্ঠান নেই। আমরা যদি এই রাস্তটা বন্ধ করে রাখি তাহলে সাধারণ মানুষের চলাচলের অসুবিধা হবে। যেহেতু কোনো অনুষ্ঠান নেই। সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব আমরা যেন এখান থেকে চলে যাই। ইনশাল্লাহ কর্মসূচি যখন নেবো তখন আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখবো। সকলে দোয়া করবেন।
গতকাল বিকাল ৪টা ৫মিনিটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। ব্যাপক মানুষের ভিড় ডিঙিয়ে তারেক রহমানের গাড়ি কার্যালয়ের সামনে আনতে নিরাপত্তা কর্মীদের ভীষন বেগ পেতে হয়। এসময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো পল্টন এলাকা।
এর আগে বিকাল তিনটার দিকে গুলশানের বাসা থেকে বের হয় তারেক রহমানের গাড়িবহর। নয়া পল্টন সড়কে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতি তার গাড়িবহর ধীর গতিতে এগুয়। গাড়ি যখন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায় তখন নেতা-কর্মীরা মুহুর্র মুহুর্র করতালির দিয়ে তাদের নেতাকে শুভেচ্ছা জানায়।
গাড়ী থেকে নেমে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তারেক রহমান। এরপর দোতলায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বারে যান তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারপার্সনের পাশেই এই কক্ষটি নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য। ১৮ বছর পর নয়া পল্টনে এটি প্রথম তারেক রহমানের অফিস করা।
কার্যালয়ে পৌঁছালে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, তারেক রহমান বেশ কিছু সময় নিজের চেম্বারে অবস্থান করেন। এসময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এখন আর বসে থাকার সময় নেই। যার যার অবস্থান থেকে সব ভুলে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গত রোববার প্রথম অফিস করেন গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে। লন্ডনে থেকে গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টের জামিন নিয়ে স্বপরিবারে লন্ডন যান। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কণ্যা জাইমা রহমান।