রাজশাহী ব্যুরো : ভারতে মুসলিম নির্যাতন, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং হেযবুত তওহীদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার জুমার নামাযের পর নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোনাদিঘী মোড় ঘুরে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙচুর এবং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ প্রবেশ করানোর অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত করা জররুরি। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সুরক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি বলেও তারা মন্তব্য করেন।

কুমিল্লা অফিস

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ (অনুপ্রবেশ) করানোর প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।

শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত পূর্বসমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমীর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোবারক হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক এবং খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল।

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল এবং কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নাছির আহম্মেদ মোল্লা, কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি জি এম সামদানি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণ জেলা সভাপতি খাইরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ভারতীয় পুশইনের নামে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটানোর অপচেষ্টা ও দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রাচত্তরে গিয়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ঝিনাইদহ পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি ও জেলা আমীর আলী আজম মো. আবুবকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা সহকারী তাজুল ইসলাম, কাজী ছগীর আহম্মেদ,ড.মনোয়র হোসেন,হরিনাকুন্ডু- উপজেলা আমীর বাবুল হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আমীর আব্দুল হক মোল্লা,এনসিপির সদস্য সচিব আরেফিন কায়সার প্রমুখ । অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল।

বক্তারা বলেন, পুশইনের নামে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোক প্রবেশ করানোর যে অভিযোগ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা দাবি করেন, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং বিভিন্ন সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নয় বাংলাদেশকে ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল

ফেনী সংবাদদাতা: ভারতের বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১১দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে ফেনীতে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল পূর্ব এক বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় শহীদ মিনার চত্বরে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা মোজাফ্ফর আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি ইমামহোসেন আরমান, এনসিপি নেতা হাফেজ আহমদ, বিডিপির জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা জামায়াত নেতা আনম আবদুর রহিম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ভারত বিগত নতজানু সরকারের আমলে নির্বিচারে সীমান্তে মানুষ হত্যা করেছে। সেই দালাল সরকারের একটু প্রতিবাদ করার সৎ সাহসও ছিলনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু সময় বন্ধ ছিল। এখন আবার বর্তমান সরকারের নির্লিপ্তথার সুযোগে আবারো সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন অব্যাহত রেখেছে। তাঁরা অবিলম্বে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানান। নাহয় এর সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষ প্রস্তুত। তাঁরা বলেন, বিগত সরকারের সময় যেমন এখনো তেমনি এদেশের কোনো সুধী ব্যাংক লুটপাট হয়নি এখনো হচ্ছেনা। শুধু দেখে দেখে ইসলামী ব্যাংক গুলো পরিকল্পিতভাবে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। শিবির নেতা গুম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ঐর উপর থেকে ললুপ দৃষ্টি সরিয়ে না নিলে এর পরিনাম ভয়াবহ হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পঞ্চগড় সংবাদদাতা: ভারত সরকার কর্তৃক পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যে।

শুক্রবার বিকেল ৫ টার পর পঞ্চগড় কোর্ট চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে চৌরঙ্গী মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর মাও. ইকবাল হোসাইন, জেলা নায়েবে আমীর মাও: মফিজউদ্দীন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাও: দেলোয়ার হোসেন, পঞ্চগড় জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি রাসেদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীরা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত সরকার কর্তৃক পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা না হলে সীমান্তে মানব প্রাচীর করে পুশ-ইন প্রতিহত করা হবে।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ভারত কর্তৃক অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যে। শুক্রবার জয়িতা মহিলা মার্কেট চত্বরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা শাখার নায়েবে আমীর ও ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ -৬) আসনের এমপি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হালুয়াঘাট উপজেলা সভাপতি মাওঃ আবু বকর সিদ্দিক, এনসিপি হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার সমন্বয়ক আবু রায়হান, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।