নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল, বাড়িয়া) আসনের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ খাইরুল হাসান। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
খাইরুল হাসান বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভিন্ন দল ও ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক, নির্বাচন হবে, ভোট চাওয়া হবে-এটাই রাজনীতির নিয়ম। তবে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে তার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন এলাকায় হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মারধর ও ভয়ভীতির কারণে অনেক সমর্থক দোকানপাট খুলতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এতে করে নির্বাচনের পর এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা সহিংসতার চর্চা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী এবং জনগণ এমন পরিস্থিতি দেখতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে খাইরুল হাসান বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সংযত রাখা জরুরি। তার মতে, সুস্থধারার সহাবস্থানের রাজনীতিই এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।
এদিকে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে তিনি গাজীপুর-৫ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয় গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জ, পুবাইল, বাড়িয়াবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কার্যত আমি পরাজিত হইনি। আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসা কোনোদিন ভুলবো না।’
তিনি বিজয়ী প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, গাজীপুর-৫ নিয়ে তার যে উন্নয়ন ভাবনা ছিল, তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য একটি জনপদ গড়ে তোলা হবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, জনতার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি আজীবন মানুষের পাশে থাকবেন এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার এই অবস্থান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, ফলাফল যাই হোক না কেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এলাকার স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য জরুরি।