ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঈদগাহ ময়দানে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা রুহুল কুদ্দুস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, মাওঃ আব্দুল মজিদ শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা নায়েবে আমীর ফজলুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সরকারি সেক্রেটারি সাঈদ হাসান বুলবুল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “দেশকে আজ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে। জনগণ এখন শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। এ পরিবর্তন আনতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করতে হবে।”
কাশিমাড়ীর অতীত দুর্যোগ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে কাশিমাড়ীর ঘোলা জাপালে বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সে সময় আমি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব, আর এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি আজও মাঠে আছি।”
তিনি বলেন, “আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে কাশিমাড়ীসহ শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছি। বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়—সেটিই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য।”
আগামী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ যদি আবারো আমাকে সংসদে পাঠায়, তাহলে কাশিমাড়ী ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বাজার ও হাটবাজার উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্যখাতে আধুনিকায়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাশিমাড়ীকে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জনপদের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দখলবাজ-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়াই হবে আমার রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।”
জনসভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প শক্তি প্রয়োজন। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জনসভায় কাশিমাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।