বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গণভোট অধ্যাদেশসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ সমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার (Laps) উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি জনরায়কে উপেক্ষা করছে এবং শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছে। এভাবে ফ্যাসিবাদকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। কাজেই জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে সরকারের অবস্থানকে জেন-জিসহ জনগণ কখনো মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করে ছাড়বে ইনশা-আল্লাহ্।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টায় খুলশী থানা জামায়াতের শিক্ষা বৈঠকে প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন সংস্কার, তথ্য অধিকার (সংশোধন), সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক সংস্কার, ব্যাংক রেগুলেটরি ও মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্কার ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হলে রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পুরনো বন্দোবস্তই তো ফিরে আসবে। এটা জাতি কখনো মেনে নেবে না। কাজেই বিএনপি সরকারকে গণভোটের ম্যান্ডেট মেনে নিয়ে জুলাই সনদ পুরোপুরি মেনে নেয়ার আহবান জানান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন আমাদেরকে শপথের উপর টিকে থাকার জন্য নিজের নফসের সাথে লড়াই করতে হবে। নিয়মিত কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য পাঠ করতে হবে। শপথের জনশক্তি হিসেবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব আগ্রহ উদ্দীপনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পালন করতে হবে। এবং আখেরাতের সাফল্য অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধ থেকে নিজের সাধ্যমতো সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
খুলশী থানা আমীর অধ্যাপক আলমগীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে থানা সেক্রেটারি আমান উল্লাহ আমান সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের বিনিময়ে আমাদের মাল ও জান কিনে নিয়েছেন। কিনে নেওয়ার পর সেই জান ও মাল আবার আমাদের কাছেই আমানত রেখেছেন। দ্বীন কায়েমের পথে ঐ জান ও মাল ব্যয় এবং কুরবানির আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই ইসলামী আন্দোলনের কাজকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কাজ করে যখন নিজে তৃপ্তি পাবেন, তখন বুঝতে হবে শপথের উপর ঠিকে আছেন। শপথ অটুট রয়েছে। তাই এক আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিকতা সাথে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্বীনি আন্দোলনের কাজ করতে হবে। উক্ত শিক্ষা বৈঠকে দারসুল কুরআন পেশ করেন পাঁচলাইশ থানার সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ মুফিজুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলশী থানার সাংগঠনিক সেক্রেটারি মোহাম্মদ একরামুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।