বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে চক্রান্ত চলছে, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার। নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার। এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া, এই দেশের সর্বনাশ হওয়া। এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার। এই সরকারটা এখন তারাতাড়ি নির্বাচন করবে। অধ্যাপক ড. ইউনুসকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তিনি আর কোন কাল বিলম্ব না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটাই আমাদের চাওয়া। গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড কর্তৃক আয়োজিত, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধারা নাকি একাত্তরে কিছুই করেননি, দেশটার জন্য কোনো অবদান রাখেননি। এখন যারা '২৪-এ করেছে, তারাই সব করেছে। এইরকম একটা ধারণা দিচ্ছে। ৭১ এ আমার হাজার হাজার ভাইকে শহীদ করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের মা-বোনদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন করে, শ্লীলতাহানি করে হত্যা করা হয়েছে। এরাই আজকে দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে, গ্রাস করার চেষ্টা করতেছে। এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারি? দীর্ঘ ৯ মাস যারা যুদ্ধ করেছি পরিবার-পরিজনের কোনো খবর নেইনি। সেই দিনটাকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে, সেটাকে কি ভুলে যাওয়া যায় ভাই? আমার জন্মটাকে কি আমি ভুলতে পারি?
সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ¦ান জানিয়ে ামর্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দিবেন না। হিন্দু মুসলমান ভাগ হতে দিবেন না। আমরা হিন্দু মুসলমান এখানে ভাই ভাই, একসাথে আছি। সারাজীবন একসাথে চলেছি। এটাকে যেন কেউ দুভাগ করতে না পারে।
নিজের বয়স হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুড়ো হয়ে গেছি। সব কথা সব সময় বলতে পারি না। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে। এই দেশটা আমাদের, এই মাটি আমাদের, মানুষগুলো আমাদের। এই মানুষ গুলোকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সম্মৃদ্ধি পথে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তারেক রহমান। উনিও জেল খেটেছেন একাত্তর সালে। পাক হানাদার বাহিনী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে জেল খানায় রেখেছিল। তার সাথে তার দুই পুত্র তারেক রহমান ও কোকো রহমানকেও জেলে ছিলেন। তাই এই মুক্তিযুদ্ধটা আমাদের বুকের মধ্যে গেঁথে আছে, এটা বের হওয়ার কোন উপায় নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভেবেছেন। আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় গঠন করেছেন। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ ভাতা পাচ্ছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করেছি, আগামীতেও চেষ্টা করবো।
ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহব্বায়ক নূর করিম এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহব্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহম্মদ খাঁ, সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনসুর আলী সরকার, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।