ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত থেকে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়ার দায়ে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে শুক্রবার (০৬ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তাঁরা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দিইনি। রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবে- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।

সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে! অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপ স্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। তিনি সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সেই আলোকে গণভোটেও জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে- যা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। সরকার তখন জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে বলবে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালতকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই- এই যুক্তি দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কিন্তু কোন সংবিধান মেনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন? যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেই সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ! জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা না করে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম, ড. মোবারক হোসাইন, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে সাবেক দুই উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।