ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী সাওদা সুমির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে এক জোরালো নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীরা বাকস্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে ভোলা জেলা মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতির ব্যাপকতা ও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দীপনায় সমাবেশটি এক সময় প্রতিবাদী জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশ করায় গত ৫ এপ্রিল গভীর রাতে সাওদা সুমিকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা এ ঘটনাকে “বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ” এবং “ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, সাওদা সুমি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন; বরং তিনি দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণের উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন মাত্র। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
জেলা সেক্রেটারি রুকসানা বেগম রেশমার সভাপতিত্বে এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শামীমা ইয়াসমিন মায়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি রোকসানা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি আয়শা আক্তার, কর্মপরিষদ সদস্য জহুরা আক্তার, রোকেয়া বেগম, সদর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরজু ইসলাম এবং পৌরসভা সেক্রেটারি উম্মে হাসান।
বক্তারা সাওদা সুমির জামিনে মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি জনমতেরই প্রতিফলন। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিম্মায় থাকা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাওদা সুমিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সাওদা সুমির ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।