বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন তারেক রহমান। গত শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়। রাজনীতিতে আসার ৩৭ বছরের মাথায় তিনি দলের শীর্ষ পদে আসীন হলেন।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১০টার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইতিমধ্যে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। এর ১০ দিনের মাথায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। রাতের এই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তার নাম তালিকাভুক্ত হয়। জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে। ওই সময় বিএনপির নির্বাচনী কৌশল, মাঠে দলকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তারেক রহমান ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। এরপর ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। ওই বছরের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। লন্ডনে অবস্থানকালেই ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হলে তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। তিনি যুক্তরাজ্য থেকেই ভার্চুয়ালি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং দল পরিচালনা করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। পরে পূর্বাচলে আয়োজিত বিশাল সংবর্ধনায় অংশ নেন তিনি।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’