নির্বাচনী পরিবেশে এখনো ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি অভিযোগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যকরিতা নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধি দলে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

হামিদুর রহমান বলেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই প্রত্যাশা। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে অতীতের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে মুক্ত, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। তবে নির্বাচনী পরিবেশে এখনো ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি থেকে। অথচ এর আগেই কিছু এলাকায় বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিপরীতে আমাদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আমাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অন্য দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই বৈষম্য বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নির্বাচনী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের বড় নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দিলে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারি অর্থায়নে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। তা ছাড়া, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যা আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অতীতের মতো জনগণকে প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার প্রবণতা বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহরাইন এমন একটা দেশ যে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা তাদের দেশের আইনে সাপোর্ট করে না। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের যে শর্তাবলি আছে- বিদেশে রাজনৈতিক দলের কোনো শাখা থাকতে পারবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে আমরা অলওয়েজ এটা মেনটেইন করেছি। যদিও মিডিয়ায় বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের শাখা আমরা দেখি। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। যেখানে আমার দলের কমিটি নেই রাজনৈতিক নেতা হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।