গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা : পবিত্র রমযান মাস উপলক্ষে গোদাগাড়ী পৌরসভা-র উদ্যোগে এক সুবিশাল ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। গোদাগাড়ী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত আমীর মো. শওকত আলী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পৌরসভার জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোঃ ওবায়দুল্লাহসহ পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পবিত্র রমযান মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান নিয়ামত। এই মাস হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম, তাকওয়া ও মানবিকতার শিক্ষা অর্জনের মাস। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেনÑ

“হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)

তিনি আরও বলেন, রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষকে আল্লাহভীরু ও নৈতিকতাবান করে তোলে। রোজা মানুষের ভেতরে ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ তৈরি করে, যা একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেনÑ

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমযানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

তিনি বলেন, রমযান মাস মানুষকে গরিব ও অসহায় মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়। তাই এই মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। বেশি বেশি দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, রমযান হলো পবিত্র আল-কুরআন নাজিলের মাস। তাই এই মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। তিনি সবাইকে রমযানের শিক্ষা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আমরা যদি রমযানের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।