ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সম্মানিত আমীর এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান একাধিকবার বলেছেন আমরা দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য জামায়াত সব সময় নিয়মতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। আমরা অনিয়মতান্ত্রিক, হটকারি পদ্ধতিতে সহিংসতা ও চরমপন্থার কোন পথকে ইসলামী পথ বলে মনে করি না। আমরা মনে করি দেশের জনগণ বিগত নির্বাচনে যেভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছিলো আমরাই শুধু বিস্মিত হইনি দেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছে। আমাদের যারা শত্রুতা করেছে তারাও বিস্মিত হয়েছে। যে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ এতো ভোট দিলো! নির্বাচনের দুদিন আগের রাজধানী ত্যাগ ছুটি যে যার গন্তব্যে যাচ্ছিলো ট্রেনের ছাদে নৌকায় লঞ্চে বাসে এমন দৃশ্য ইতিপূর্বে বাংলাদেশের নির্বাচনে কেউ দেখেনি। দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখরিত করে তারা রাজধানী ত্যাগ করেছে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। আর ভোট কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম। ভোট গণনা শুরু হলো সারাদেশ থেকে একের পর এক আমাদের আসনগুলোতে বিজয়ের খবর আসতে থাকলো। রাত নয়টার পর রহস্যজনকভাবে মিডিয়াতে সেই ফলাফল দেয়া বন্ধ করে দেয়। আমরা মনে করি ভোট গণনা ও রেজাল্ট তৈরির মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর টাউন হলে তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ মহানগরীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় রুকন সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেক সংসদীয় আসনে ১-৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেয়া হয়েছে সেসব আসনের সংখ্যা হবে ৫০ এর ঊর্ধ্বে। আমরা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছি। বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের এসব বিষয় নিয়ে আমরা আদালতে যাবো। যেসব আসনে অনিয়মত হয়েছে তা পুনঃগণনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ইনসাফপূর্ণ সমাধানের জন্য আদালতের স্মরণাপন্ন হবো ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা প্রায় দেড় বছরের মতো সময় পেয়েছিলাম এই ময়দানে কাজ করার জন্য। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক কল্যাণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করে যেতে চায়। আমাকে আপনাদের এলাকার অঞ্চল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা যাতে সকলে মিলে মিশে এই এলাকাকে সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, রংপুর, চাপাইনবাবগঞ্জের মতো সাংগঠনিক এলাকায় পরিণত করতে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনটা হবে অনেকগুলো সূত্রের একত্রীকরণের মাধ্যমে। একটা হবে বাংলাদেশের জনগণ। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ দুইভাগে বিভক্ত হওয়ার এক দৃশ্যপট ফুঁটে উঠেছে। একদিকে থাকবে ইসলামী আন্দোলনের আদর্শের পক্ষের শক্তি এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তি। আরেক দিকে থাকবে ভারতের পদলেহী এবং নাটকীয়ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার শক্তি। অবশেষে এই শক্তির পরাজয় এবং দাফন সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ময়মনসিংহ মহানগরে জাতি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এই আসনে ভোট দিয়েছেন। আমাদেরকে কারচুপি করে হারানো হয়েছে। আমরা মনে করি আমরা জয়ী। আমাদের বিশাল ভোটার ভাইবোনদের আমাদের সংগঠনের ছায়াতলে নিয়ে আসতে হবে। এই সমাজের মানুষ যেদিন মনে করবে আমরা আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী সেদিন আমাদের চূড়ান্ত বিজয় হবে। আর আমাদের নিজেদের সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে।

রুকন সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল, আনোয়ার হাসান সুজন, সহ-সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্য, সাংগঠনিক থানা শাখার আমীর ও সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।