চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেছেন দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ-সরোয়ার জামাল নিজাম আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ থেকে দলের হাইকমান্ডকে ভুল বার্তা দিয়ে কৌশলে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবির দিঘীর মোড় থেকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কর্ণফুলী টানেলের প্রবেশমুখে গিয়ে শেষ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, মিছিল চলাকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সরোয়ার জামালের কুশপুতুল দাহ করেন। একই সঙ্গে তার ছবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সরোয়ার জামাল নিজাম দীর্ঘ ১৬ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলেন না; বরং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা ভোগ করেছেন। তারা বলেন, যখন মামলা-হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া জীবন কাটাচ্ছিলেন, তখন তিনি নিরাপদে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছিলেন। দলের প্রতি নিবেদিত, সৎ ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে তাকে প্রার্থী করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা অবিলম্বে ঘোষিত মনোনয়ন বাতিল করে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানান। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, “দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন-এতটুকুই জানি।”
মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও সরোয়ার জামাল ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেননি, পরে মামলা-হামলার শিকার কর্মীদের কাছেও যাননি।
অভিযোগের বিষয়ে সরোয়ার জামাল নিজাম মুঠোফোনে বলেন, “মনোনয়ন অনেকেই চেয়েছেন। দল আমাকে পছন্দ করে প্রার্থী করেছে। তারা কেন বিরোধিতা করছে, সেটি আমার জানা নেই।”
আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, মশাল মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। পরে মশাল মিছিল শেষে তারা চলে যায়। তাদের মিছিলের ফলে কিছুক্ষন যানজট ছিল।
উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বর বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামকে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।