সুস্থ্য ধারার ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা নতুন প্রজন্মের মেধা-মননের বিকাশ, স্বাস্থ্যবান জাতি এবং আদর্শ নাগরিক গঠনে খুবই সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

গতকাল শনিবার লক্ষ্মীপুরের প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগ আয়োজিত ড. রেজাউল করিম ফুটবল টুন্টামেন্ট-২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আমীর আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। বক্তব্য রাখেন চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম খান সুমন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, জুলাই বিপ্লব কোন দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং এ বিজয় ছাত্র-জনতা সহ আপমর জনসাধারণের। বিপ্লবোত্তর প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই গণহত্যাকারী বিচারের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মহল বিশেষের হঠকারিতার কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এর কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। কারণ, সম্প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গেজেট প্রকাশ করা হলেও একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণায় জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে জুলাই বিপ্লবই ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু সচেতন ছাত্র-জনতা এসব ষড়যন্ত্র কোনভাবেই মেনে নেবে না। তিনি প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে সরকারের সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনা করে সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের পর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহবান জানান। অন্যথায় জুলাই বিপ্লব হাতছাড়া হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব এমনিতেই হয়নি বরং এজন্য প্রায় দু’হাজার মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাই এদেশের মানুষ আর অপশাসন-দুঃশাসন ও স্বৈরাচারি-ফ্যাসিবাদী শাসনে ফিরে যেতে চায় না। কারণ, তারা স্বাধীনতার পর সুশাসন ও জনগণের ভাগের পরিবর্তের নামে লুটেরাদের লুটপাট ও লাগামহীন জুলুমবাজী দেখছে। তাই তারা এখন পরিবর্তন চায়। দেশের মানুষ এখন আর পুরাতন প্রতীকে ভোট দিয়ে নতুন করে প্রতারিত হতে চান না। কারণ, তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, অতীতের শাসকরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা বলে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে নিয়েছে। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে শরীক হতে চায়। তিনি দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র, দুর্নীতি ও ঘুষ করে করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে সকলকে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে ময়দানে আপোষহীন থাকার আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।