আবদুর রাজ্জাক রানা, খুলনা ব্যুরো : আর মাত্র দুই মাস পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন তারা। মাঠে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামি ইসলামী পার্টি, জাগপা, বিডিপি, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা থাকলেও দিন যত যাচ্ছে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে। ৬ টি আসনেই শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বিএনপি ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আন্দোলনরত ৮ দলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রচার-প্রচারণা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। বিভিন্ন শ্লোগান সংবলিত পোস্টার, লিফলেট, প্যানা, ফেস্টুন সাটিয়েছে খুলনাঞ্চলের অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা ও মোড়ে মোড়ে। শর্ট ফ্লিম, নির্বাচনী গানসহ বিভিন্ন অভিনয়ের মাধ্যমে তারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দর।
খুলনা-১ আসন :
বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসন। এটি জাতীয় সংসদের ৯৯ নম্বর আসন। দাকোপ উপজেলায় ৯টি ও বটিয়াঘাটায় ৭টি ইউনিয়ন এবং চালনা পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথামার্ধেই হতে যাচ্ছে-এমন খবরে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সবখানেই চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এখানে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান। তবে বসে নেই সাবেক ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান পাপুল। তিনি পুনরায় মনোনয়নের দাবিতে বেশ সক্রিয়। এখানে প্রার্থী মনোনয়নে নতুন চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তার নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খুলনা জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ।
খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে ঠিক কতজন হিন্দু ভোটার সেটি জানা না গেলেও একাধিক সূত্র বলছে অন্তত ৪০ থেকে ৪২ শতাংশই হিন্দু ভোটার।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘কঠোরভাবে আদর্শভিত্তিক জামায়াত হলো ন্যায়-সততার দল। এখানে দুর্নীতির কোন স্থান নেই, চাঁদাবাজি নেই, মাদক নেই। শান্তি-সমৃদ্ধি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দল বলে আমি জামায়াতকে বেছে নিয়েছি। ২০০৩ সাল থেকে এই দল করছি। হঠাৎ করে যুক্ত হইনি।’ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোণঠাসা ছিলেন বলে অভিযোগ করেন কৃষ্ণ নন্দী। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দাপটে থাকা এই এলাকায় তিনি জামায়াত করার কারণে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই আসনের মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক করা হয়েছে। আমি কৃষ্ণ নন্দীর বিজয়ের জন্য সর্বাত্মক কাজ করব। তার পক্ষে আমি প্রচারণা শুরু করেছি। যেহেতু আমাকেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক করা হয়েছে, সেহেতু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি যথাসম্ভব কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
দাকোপের চালনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বারুইখালী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ও হিন্দু নেতা রবি শংকর রায় বলেন, “দল বা সম্প্রদায় দেখে নির্বাচনে কাউকে বিচার করা সঠিক নয়। দেখতে হবে সেই প্রার্থীর আচার-ব্যবহার ও মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা আছে কি-না?” তিনি আরও বলেন, “আমি এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে কখনো দেখিনি। তাকে চিনি না। তিনি এলাকায়ও কখনো আসেননি। তবে তিনি যদি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন, মানুষের মন জয় করতে পারেন-তাহলে তাকে ভোট দিতে আমরা দ্বিধা করবো না।”
অপরদিকে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান। এর আগে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউর রহমান পাপুল সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ চালালেও দল শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা আমির এজাজ খানের ওপরই আস্থা রেখেছে। তবে থেমে নেই পাপুল। তিনি মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনার দাবিতে সভা, সমাবেশ ও গণমিছিল করছে এলাকায়।
ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, আমি সব সময় মাঠেই ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ধানের শীষ নিয়ে লড়তে প্রস্তুত। দাকোপ একটি ভাঙনকবলিত এলাকা। এখানে উন্নয়ন হয়নি, বটিয়াঘাটায় নামেমাত্র উন্নয়ন হয়েছে। সুযোগ পেলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এম এ খায়ের, ১৯৭৯ সালে বিএনপির সৈয়দ মোজাহিদুর রহমান, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের শেখ হারুনুর রশিদ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শেখ আবুল হোসেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের শেখ হারুনুর রশিদ বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে এমপি হয়েছিলে বিএনপির প্রফুল্ল কুমার মন্ডল। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
খুলনা-২ আসন :
খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত খুলনা-২ আসন জাতীয় সংসদের ১০০ নম্বর আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় জোরেসোরে নেমেছেন। তারা সকাল থেকে রাত অবধি লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে খুলনা বিভাগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। আর জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা রাত সকাল থেকে রাত অবধি ।
খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৫ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৭ ও বুথ সংখ্যা ৬৫৪। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মাত্র ৪ বার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিগত দিনে এ আসনে বিএনপিরই প্রাধান্য ছিল বেশি।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, খুলনা-২ আসনকে ভিভিআইপি আসন বলা হয়ে থাকে। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছিলেন। এছাড়া সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কেন্দ্রের কাছে এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এটা নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি মাওলানা মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. শহীদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল সকাল থেকে রাত অবধি লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি ফয়সাল শেখ। এ আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমি নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে আমার প্রচার-প্রচারণা। ২০০৯ সালে নির্বাচনে সারাদেশে যে ৩০ জন বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছিল তার মধ্যে আমি একজন। এছাড়া মেয়র ও এমপি নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ভোট ডাকাতি করে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন অপশক্তির সঙ্গে আপস করিনি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম। মঞ্জু বলেন, দুঃসময়ের দিনগুলোতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, ত্যাগ ও শ্রমের কারণে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জামায়াত। তিনি বলেন, নির্বাচনে দুই ধরনের কাজ করতে হয়। নমিনেশন দেওয়ার পরে এক ধরনের কাজ। তফসিল ঘোষণা করার পরে আর এক ধরনের কাজ। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণসংযোগ করা। ঘোষণার পর ১৬টি ওয়ার্ডে আমরা নির্বাচনী গণসংযোগ করেছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছি, সাংগঠনিক কার্যক্রম মজবুত করা এবং সংগঠনকে গতিশীল করছি। এ জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নির্বাচনী লিফলেট, উঠান বৈঠক, ভোটার সমাবেশ, ভোট কেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশ ও গণসংযোগ করছি জোরেসোরে। তিনি বলেন আলহামদুলিল্লাহ খুলনা মহানগরীর নির্বাচনী হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। নগরবাসী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে।
খুলনা-৩ আসন :
খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসন। জাতীয় সংসদের ১০১ নম্বর এই আসনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠ গোছাচ্ছেন এ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। তারা নিজ নিজ এলাকায় লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, ভোট কেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশ ও গণনসংযোগ বাড়িয়েছেন। শিল্পাঞ্চল খ্যাত এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নজর বন্ধ শিল্প কলকারখানার শ্রমিকদের দিকে। গণসংযোগে তারা বন্ধ শিল্পকল কারখানা চালুসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ আসনে নির্বাচনের মাঠে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ার মতো।
খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ২৮৬জন । এখানে কেন্দ্র সংখ্যা ১১৫ ও বুথ ৪৯৭টি । এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী কর্মকান্ড চালাচ্ছেন খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান,বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও এনসিপি থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল ও খেলাফত মজলিসের এফ, এম, হারুন-অর-রশীদ। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি। প্রতিদিনই এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন মাহফুজুর রহমান। অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে খুলনা-৩ আসনে কাজ করার জন্য আমাকে বলা হয়েছে। সে হিসেবে কাজ শুরু করেছি। মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া। মানুষ এবার ইসলামের পক্ষের মানুষকে দেখতে চায়। আমরা মানুষের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করছি। মানুষের সাথে কথা বলে বুঝতে পারছি তারা শিল্পাঞ্চলের পুনরুদ্ধার চায়। খালিশপুর-দৌলতপুর এক সময় শ্রমিকদের কাজে মুখরিত থাকতো এখন সেখানে মৃত্যুপরী। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেয় প্রথম কাজ হবে বন্ধ শিল্পকল কারখানা কিভাবে চালু করা যায়। এর সাথে জড়িতদের কর্মসংস্থান করা। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, স্যুয়ারেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা যা আছে তার দিকে নজর দেবো। আমরা এখনও আমাদের সেবামূলক কাজের মধ্যে দিয়েও এসব কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আরও করবো। ইনশাল্লাহ আমরা আশাবাদী মানুষের এ অনুভূতি ধরে রাখতে পারলে জয়ী হতে পারবো।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই ইনশাআল্লাহ সাধ্য অনুযায়ী কাজ করব। বন্ধ শিল্পকর কারখানা চালু করব। মৃত শিল্পাঞ্চল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করব।
খুলনা-৪ আসন :
রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৪ আসন। এটি জাতীয় সংসদের ১০২ নম্বর আসন। খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৩ জন, কেন্দ্র সংখ্যা ১৪৪,বুথের সংখ্যা ৭১৯ টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়ন পাওয়ার আশার দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল। অপরদিকে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের একক প্রার্থী নির্দিষ্ট হয়েই আছে। এ নেতারা নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার সাটাটো হয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের অনুসারীরা। সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন কেউ কেউ।
এ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের খুলনা জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর এ আসনে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বেশ সক্রিয়। নতুন করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ করছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কবিরুল ইসলাম। বিতরণ করছেন লিফলেট ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি চালাচ্ছেন গণসংযোগ। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। প্রস্তুতি চলছে। আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঊঠান বৈঠক হচ্ছে। গণসংযোগ চলছে। সাধারণ মানুষ ইসলামের সাথে আছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ খুলনা মহানগরীর সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নির্বাচনের মাঠে তিনি নতুন নন। এর আগে ১৯৯১-৯৬ সালে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন এবং সম্মানজনক ভোট পান। এবার তার দল খেলাফত মজলিসের যে কয়টি আসনে নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলেছে তার মধ্যে খুলনা-৪ অন্যতম।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী কেন্দ্রীয় মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ইউনিয়ন থেকে জেলা শাখার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সময় থেকে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি এই দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, নির্বাচনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আমার প্রস্তুতিও রয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
খুলনা-৫ আসন :
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি এবং ফুলতলা উপজেলার ৪টি মোট ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসন। সংসদীয় আসন নং-১০৩। মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৩ জন কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি ও বুথ রয়েছে ৭৮২টি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে এবছর বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে-ময়দানে নির্বাচনী গণসংযোগ, ওয়ার্ড সভা, উঠান বৈঠক, ভোটার সমাবেশ, প্রতিনিধি সমাবেশ ও মহিলা সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি পালন করছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের একজন করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি বিসিবির সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী আসগর লবি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শফি মোহাম্মদ খাঁন মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনার জন্য এলাকায় সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডুমুরিয়া উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুস সালাম, রিকশা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার এবং দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল জব্বার আযমী কাজ করছেন।
এ আসনে আওয়ামী লীগের দাপট খর্ব করে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ২০০৮ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং ২০১৮ সালে জোটের শরীক হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
তিনি সব সময় জনগণের নীবিড় সংযোগে ছিলেন। ফলে সাংগঠনিক শক্ত ভিত্তি বাড়তি শক্তি যোগাচ্ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়। ইতোমধ্যে দুই দফা দলের আমীর মানবিক রাজনীতিক ডা. শফিকুর রহমান এসেছেন খুলনায়। জনতার ঢল নামা জনসভায় জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ সরকারের ১৫ বছরের প্রায় সাড়ে ৭ বছর আমি কারাগারেই ছিলাম। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আমি কারাগারে ছিলাম। ৬ আগস্ট বের হয়ে আমি সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যাসিস্ট সরকারের ধ্বংস করা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়াসহ দেশের গুণগত ও কল্যাণমুখী পরিবর্তনে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাদের এই কল্যাণমুখী রাজনীতি গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ কারাবাসের ভিতরও যখনই একটু সময় পেয়েছি তখনই ফুলতলা-ডুমুরিয়ার জনগণের মানুষের মাঝে ছুটে এসেছি। খোঁজ খবর নিয়েছি এবং সাধ্যমত তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে দল আমাকে ফুলতলা-ডুমুরিয়ার প্রার্থী হিসেবে আবারও মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে এমপি থাকাকালীন সময় আমি ফুলতলা-ডুমুরিয়ার রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, ঈদগাহ, শশ্মান, স্কুল, কলেজ, টিউবওয়েলসহ প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলাম। আগামীতেও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও সন্ত্রাস কবলিত এই ফুলতলা-ডুমুরিয়ার জনপদকে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত করেছিলাম। বিভিন্ন বিলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা এবং আগামীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বেকারমুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধ ফুলতলা-ডুমুরিয়া উপজেলা গড়াই হবে আমার কাজ।
এদিকে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীকে মোকাবেলা করার জন্য মো. আলী আজগর লবীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি শফি মোহাম্মদ খান তার অনুসারীদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন শফি। মো. আলী আজগর লবী বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে কাজ করছেন। এলাকার সন্তান হিসেবে আমাকে সবাই সমর্থন করছেন। দলও আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি জয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখবো।
খুলনা-৬ আসন :
পাইকগাছা উপজেলার ১০ টি এবং কয়রা উপজেলার ৭ টি মোট ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। সংসদীয় আসন নং ১০৪। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৫৫টি ও বুথ রয়েছে ৭৯৮টি। বিশ্বের বৃহত্তম ‘ম্যানগ্রোভ’ বন সুন্দরবন সংলগ্ন যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের একটি দুর্যোগকবলিত জনপদ। এলাকাটি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, ঠিক তেমনি রয়েছে এক ভয়াবহ জীবন-সংকট। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এর অবস্থান হওয়ায় সিডর, আইলা, আম্ফান-এর মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বারবার আঘাতে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা দীর্ঘকাল ধরে হুমকির মুখে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা গণসংযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী এলাকাটি জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাতের ভোটে, বিনাভোটে, ডামি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন এই আসনটি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত মনোনীত ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলার সহ-সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আসাদুল্যাহ আল গালিব, এনসিপির হয়ে লড়তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জেলার সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি, এনসিপি খুলনা জেলার যুগ্ম-সমন্বয়ক এডভোকেট মাফতুন আহমেদ ও বৈষম্যবিরোধীর আরেক নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলও এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এ আসন থেকে অতীতে দুইবার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ মুহা. রুহুল কুদ্দুস জিতেছেন। ফলে সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই শক্তিশালী। সাথে যোগ হয়েছে প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের অবিরাম নির্বাচনী তৎপরতা। এখানে জামায়াতের স্বস্তি যতোটা, বিএনপির অস্বস্তি ঠিক ততোটাই। এ আসনে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ইসলামী রাজনীতির সাথে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সম্পৃক্ত এই প্রবীণ নেতা স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে বারবার কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন যা এলাকায় তাকে এক ভিন্ন পরিচিতি দিয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের দোয়া ও ভোটারদের ভোটে আমি বিজয়ী হলে রাস্তা-ঘাট সংস্কার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নদী খনন, স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্ধ স্লুইচ গেইট সংস্কার, মাদক নির্মূল করা, ক্রীড়া খাতে উন্নয়ন, খাল খনন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা, কবরস্থান, শ্মশান ঘাট নির্মাণ, কসাইখানা তৈরি, রেললাইন স্থাপন, মৎস্যজীবীদের আয়ের ব্যবস্থা তৈরি, কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহ, কীটনাশক সরবরাহ, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, কয়রা পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসন, পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। তার বাড়ি আসনের মধ্যে না হওয়ায় কয়রা-পাইকগাছার স্থানীয় নেতৃবৃ›দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা উপজেলায়। তিনি তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে রাত অবধি গণসংযোগ করছেন। বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে। তাতে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম বাবর আলী । ১৯৭৯ সালে বিএনপির শেখ রাজ্জাক আলী । ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মমিন উদ্দিন আহমেদ। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ শাহ্ মুহা. রুহুল কুদ্দুস । ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শেখ মো. নুরুল হক। ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ শাহ্ মুহা. রুহুল কুদ্দুস। ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের সোহরাব আলী বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের শেখ মো. নুরুল হক বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোটে আওয়ামী লীগের আক্তারুজ্জামান। ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. রশিদুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।