কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
আহতরা হলেন, এনসিপির সুলতান মারুফ তালহা, আলী আহসান মুজাহিদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহির, সদস্য সচিব রেদোয়ান আফ্রিদি, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক জুবায়ের, ইবরাহীম, নয়ন হোসেন প্রমুখ। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এনসিপি ও কুষ্টিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দলের নেতা-কর্মীরা ও পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেও দুফায় হামলার ঘটনা ঘটে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির নেতা সুলতান মারুফ তালহা জানান, আমরা কুমারখালী হতে ইফতারি শেষ করে কুষ্টিয়া শহরে প্রবেশের সময় শুনতে পেলাম "আয়াশ" নামের এক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হতে বহিষ্কৃত নেতার নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন আমাদের প্রতিষ্ঠিত "শহীদ আবরার ফাহাদ" লাইব্রেরিতে হামলা চালায়। এমতাবস্থায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও কুষ্টিয়া পলিটেকনিক থেকে বেশ কিছু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মী তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে তারা লাইব্রেরী এলাকা হতে পলায়নের ভান করে সরকারী কলেজ মাঠে প্রবেশ করে। সেখানে পূর্ব থেকেই প্রায় ১০০/১২০ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা লুকিয়ে ছিলো। যারা কুষ্টিয়া শহরের বাইরে থেকে ১০টা "ইজিবাইক" ও মোটরসাইকেল যোগে একটি বড় রাজনৈতিক দলের বড় এক নেতার অর্থায়নে আসে। মাঠে প্রবেশের সাথে সাথে মৌচাকের মতো তারা ঘিরে ধরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সদস্য সচিব আফ্রিদি ও কুষ্টিয়া পলিটেকনিকের আহ্বায়ক জুবায়েরকে। এক পর্যায়ে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করতে থাকে। আমরা সেখানে ছুটে যাই ও হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু বাইরে থেকে মদদপুষ্ট ওইসব যুবকরা আমাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান, সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ, হুমাইরা কবির সাদিয়া, মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধনসহ শতশত নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমান বলেন, আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি বহির্ভূত কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া এবং ষড়যন্ত্রমূলক কর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মুখলেচুর রহমান, সদস্য সুমন আহমেদ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম মুবাশ্বির মাহমুদ, তালহা জুবায়ের নাবিলের সদস্য পদ বাতিলসহ সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উপরে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহতদের দেখতে আসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম, নায়েবে আমীর ও সাবেক মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।