কামাল হোসেন আজাদ/ শাহজালাল শাহেদ, কক্সবাজার থেকে : জাতীয় নির্বাচনের পর ইনসাফের দেশ গড়ার দিকে পা বাড়াবে বাংলাদেশ এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, পেছনে থাকানোর সুযোগ নেই; অপপ্রচার সমালোচনাকারীরাই পেছনে পড়ে থাকবে। আমাদের অগ্রযাত্রাকে আর দমিয়ে রাখতে পারবেনা। যাদের জন্য আজ এ দেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি সাহস সঞ্চয় করেছে; তাদেরকে আজ অপমান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের কারণে অনেকে আজকে জেল থেকে বের হয়েছে। বিদেশে গিয়ে অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের কারণে আজ অনেকের দেশে আসার সুযোগ হয়েছে। আজকে সেই উপকারকে আপনি উপহাস করেন। এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি, তেরো তারিখ ইনশাআল্লাহ নতুন করে বাংলাদেশ পাবে দেশের জনগণ। সেদিন আমাদের মায়েদেরকে আমাদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেবো ইনশাআল্লাহ। তাদেরকে ঘরে বাইরে কর্মস্থলে সর্বত্র সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সমস্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার। সন্তান লালন পালনে মায়েদের ভূমিকা অপরীসিম এবং এ নেয়ামত মহান আল্লাহ তা’আলা শুধু মায়েদেরকেই দিয়েছেন। এ মায়ের জাতিকে যারা সম্মান করবেন; আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাহ। তবে মা’দেরকে যারা সম্মানিত করতে জানবেনা- তারা আল্লাহর কাছ থেকে সম্মান পাবেনা।

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তারা রাস্তায় নেমে পড়ে নাই; আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলে। তারা বলছেন আমাদেরকে কাজ দেন। এটাই ছিলো তাদের প্রাপ্য দাবি- যে আমাদের পাওনা কাজটা আমাদের বুঝিয়ে দেন। আমাদের মেধা যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা হোক।

তিনি যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেকার ভাতার সমালোচনা করে বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমানিত করবো না। আমরা যুবকের প্রত্যেকটা মজবুত করে গড়ে দেবো। যাতে করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারে। এবার তারাই চিৎকার দিয়ে বলবে আমিই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে গর্বিত নাগরিক বানাতে চাই যুব সমাজকে।

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি এখন চোখে অন্ধকার দেখছে। দিনকে রাত মনে করে দেশের বিভিন্নস্থানে অঘটন ঘটাচ্ছে। দিশেহারা হয়ে কি করবে কি ধরবে হিসাব খুঁজে পায় না। কিন্তু‘ মনে রাখবেন; সেইদিন জনগণের ভালোবাসার জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনগণের দেহের ওপর চাবুক মারতে পারবেন; মনের ওপর চাবুক মারতে পারবেন না।

গত কয়েকদিন ধরে দেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। মা বোনদেরকে অপমান করা। তার প্রতিবাদ করায় এখন চোরের মতো আমার পেছনে লেগেছে। তাদের সামনাসামনি প্রতিবাদ করার সাহস নেই। এসব লোকেরা সামনে আসার সাহস পাবেনা; পেছনেই পড়ে থাকবে। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন, নিজের আদর্শ কর্মসূচি পরিকল্পনা বক্তব্য চরিত্র নিয়ে আসুন। আমাদের দল আমাদের শাসক আমাদের সরকারই পারবে একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দিতে। অবশ্য সেটি তারা বলেনি। তারা চাইছে টুটি চেপে ধরতে। বগলের তলে ঋণ খেলাপি; আর আপনিই দিবেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ? জনগণ সবার চালাকি বুঝে। জনগণ এখন বোকা না।

গতকাল সোমবার কক্সাজার জেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিশাল নির্বাচনী জনসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সকাল দশটায় শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সাজার জেলা জামায়াতের আমীর উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ মাহমুদা মিতু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কক্সাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, এবি পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর কাশেম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ ইবরাহিম, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ নুরুল্লাহ জিহাদী, সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা নুরুল হক চকোরী, এলডিপির কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, জেলা জামায়াত নেতা নুরুল হোসাইন সিদ্দিকী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, জেলা শ্রমিক কল্যাণের সহ-সভাপতি সাইদুল আলম, কক্সবাজার সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক খুরশীদ আলম আনসারী, উখিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল ফজল, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল, জুলাই আন্দোলনে শহীদ আহসান হাবিবের চাচা মাস-উদ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ পারভেজ, কক্সবাজার জেলা এনসিপির সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খালিদ বিন সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাইয়ান কাশেম প্রমুখ। পুরো জনসভা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ও জেলা মিডিয়া সমন্বয়ক আল আমিন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মুফতি হাবিব উল্লাহ।

এই মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে ডা. শফিকুর রহমান

মহেশখালী সংবাদদাতা : মহেশখালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে এ জনসভার কর্মসূচির সূচনা হয়।

জনসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাস্টার শামীম ইকবাল, আমীর, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ের শহীদ যোদ্ধা তানভির সিদ্দিকীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়েই আজকের এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। বুক চিতিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, শহীদ তানভির সিদ্দিকী তাদের অন্যতম। তাদের আত্মত্যাগ না হলে জাতির জন্য এই অমানিশার অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসা সহজ হতো না।

তিনি বলেন, আমি আজ মহেশখালীবাসীর কাছে ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নিয়ে আসিনি। আমি এসেছি দেশের পরিবর্তনের জন্য, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশকে একটি সম্মানিত ও নন্দিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। যার জন্য দরকার গণভোটে হ্যাঁ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও আর কারো কাছে বন্ধক রাখা হবে না। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না। তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি। আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ দিয়ে সবাইকে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে গণজোয়ার সৃষ্টি করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, যারা এর বিপক্ষে অবস্থান নেবে, জনগণ তাদের আবার ফ্যাসিবাদ ও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র কায়েমের অপচেষ্টা হিসেবে দেখবে।

যুবসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যুবকরা কখনো বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেনি। তারা সম্মানজনক কাজ চেয়েছে। আমরা যুবকদের হাতে অসম্মানজনক বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। মহেশখালী-কুতুবদিয়া এই কর্মসংস্থানের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মহেশখালীকে ইনশাআল্লাহ সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোনে পরিণত করা সম্ভব। তিনি বলেন, যুবকরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন, আর আমরা থাকব তাদের সহযাত্রী হিসেবে।

দেশ থেকে অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা জনগণের। ইনশাআল্লাহ এই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে ইনসাফের ভিত্তিতে সারা দেশে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাজের সুযোগ পাবে। কর্মক্ষেত্র, চলাচল ও সমাজের সর্বত্র নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মহেশখালীর মিষ্টি পান জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য গুনে, মানে সবচেয়ে যোগ্য। আল্লাহ দায়িত্ব দিলে মহেশখালীর মিষ্টি পানকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করা হবে এবং এর স্বত্ব রক্ষা করা হবে।

তিনি বলেন, আমদানী নয়, লবণকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্যারাবন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের ওপর প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য বন্ধ করা এবং মিথ্যা মামলাবাজদের রুখে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষে বক্তব্যে মাওলানা উবাইদুল্লাহ নদভী নবী (সা.)-এর অবমাননাকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান কার্যকর করার দাবি জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামী ইসলামী পার্টি, এনসিপি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, পেশাজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন মহেশখালী উপজেলা উত্তরের আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম।

হামিদুর রহমান আযাদ শুধু একজন এমপি নন তিনি একজন মন্ত্রী হবেন ডা:শফিকুর রহমান

সংবাদদাতা মহেশখালী : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হামিদুর রহমান আযাদ একজন এমপি নন শুধু,তিনি একজন মন্ত্রী হবেন,এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের,আপনারা একজন এমপিকে ভোট দিবেন নাকী একজন মন্ত্রীকে ভোট দিবেন?কক্সবাজার-২ (মহেশখালী, কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড.হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে ১১দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,মহেশখালীতে আমি আল্লাহর নেয়ামত দেখে দেখে আসলাম,তবে এত নেয়ামত থাকা স্বত্তেও এশহরের মানুষের ন্যায় নিম্নমানের জীবন যাত্রা কোথাও দেখি নাই।

মহেশখালী-কুতুবদিয়াকে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, আল্লাহ যদি আমাদের ক্ষমতায় নেয় এ দ্বীপকে সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের মত গড়ে তুলা সম্ভব। মহেশখালীর গভীর সমুদ্র বন্দরকে ব্যবহার করে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে।

ডা: শফিকুর রহমান যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, হে যুবক তোমরা তৈরী হও,আগামীর বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমারা হবে নাবিক আমরা হব পেছনে বসা প্যাসেঞ্জার। যুবকদেরকে আমার বেকার সার্টিফিকেট দিয়ে লজ্জা দিবনা, চাকুরি দিয়ে মাথা উচু করে দাড়াতে সহায়তা করব।

তিনি বলেন মহেশখালীতে ভোটের দাবী নিয়ে আসিনি, ‘২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শহীদ তানভীর হোসেন এর পরিবারের খোঁজ নিতে এবং তার প্রতি সম্মান জানাতে এসেছি। দেশে নৈরাজ্য বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জুলাই শহীদদের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদকে জয়যুক্ত করে জোটকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কার্যকর করতে হলে গণভোটে “হ্যাঁ” পক্ষে ভোট দিতে হবে এবং দেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্র বানাতে হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে আপনাদের মূল্যবান রায় প্রদান করতে হবে।

সোমবার সকাল ১০ টায় নতুনবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ড. এ, এইচ, এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন,জাগপা কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ওবাইদুল হক কাসেমী নদভী,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ শাহজাহান,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ, কক্সবাজার জেলা এবি পার্টি’র সভাপতি এনামুল হক সিকদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলার সাবেক আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি মাওলানা আবু মুছা, এনসিপি জেলা সভাপতি অধ্যাপক আক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য জাকের হোসাইন, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিন আমীর মাষ্টার শামীম ইকবাল, উত্তর আমীর মাষ্টার নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর শাহরিয়ার চৌধুরী, আজিজুর রহমান, এ্যাড ফরিদুল আলম, এ্যাড. নুরুল ইসলাম, এ্যাড. কবির হোসেন, এনসিপি মহেশখাল উপজেলা সভাপতি মো. তারেক, এনসিপি নেতা মোঃ ইয়ামিন, খেলাফত মজলিশ উপজেলা সভাপতি নুরুল আলম, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ছৈয়দুল হক সিকদার, বারবাকিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম, কুতুবদিয়া লেমশীখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) ঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বীর চট্টলার জনগন ঐক্যবদ্ধভাবে ১১দলীয় জোট প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, চট্টগ্রামে অনেক শহীদের রক্ত ঝরেছে। চট্টগ্রাম হচ্ছে গর্বের চট্টলা। এই বীর চট্টলা থেকেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকেই ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা শুরু হবে।

‎গতকাল বিকাল ৪টায় সীতাকুণ্ড স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি আরও বলেন আমি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার পিছনে লেগে গেছে। আমার জন্য যে গর্ত করেছে সেটাতে তারাই পরবে। বক্তব্য শেষে তিনি উত্তর চট্টগ্রামে জোট প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও রিক্সা প্রতীক তুলে দিয়ে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং তিনি নারায়ে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারন করে মাঠ প্রকম্পিত করেন।

‎সোমবার বেলা ২টায় কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা। জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন সিকদার এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ফজলুল করিম এর সঞ্চালনে জনসভায় বক্তব্য রাখেন এমপি প্রার্থী এড সাইফুর রহমান, অধ্যক্ষ নুরুল আমিন,আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, নাসির উদ্দীন মনির, শাহজাহান মনজু,ডাঃ রেজাউল করিম। বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা মাওলানা শাহাজাহান, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, নুরুল আমিন চৌধুরী, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রণি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, এনসিপি নেতা শাগুপ্তা বুশরা, খেলাফত মজলিস মাওলানা জাফরুল্লাহ নিজামী, উপজেলা আমীর মিজানুর রহমান সেক্রেটারি মোঃ তাহের প্রমুখ।

‎জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ছাড়াও মিরসরাই, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ উত্তর জেলার সাতটি থানা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দিচ্ছেন।

আশরাফ উদ্দিন (চট্টগ্রাম) মিরসরাই

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মায়েরা আমাদের মাথার তাজ, আমরা তাদের সর্বোচ্চ সম্মান করি। কিন্তু কাপুরুষের দল আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। লেগে লাভ হবে না, নিজেরা ফেঁসে যাবে।

আমি দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তাই আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। ঢাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জাকসু এসে থেমেছে আপাতত। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

মা বোনেরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। এজাতি সব বরদাস্ত করলেও, মায়েদের উপর নির্যাতন সহ্য করবেনা। মায়েরা রাস্তায় নামতে শিখেছে।

গতকাল সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে সীতাকুণ্ডের ডেবার পাড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি সারাদেশসহ বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আমি চাইনা জামায়াত ক্ষমতায় আসুক, আমি চাইনা ১১ দল ক্ষমতায় আসুক আমি চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষ ক্ষমতায় আসুক। আমরা যেন রাষ্ট্রের সবকিছু বন্টন করে দিতে পারি দেশ প্রেমিক মানুষের মাঝে। যারা ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন।

বক্তব্য শেষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ৭ টি আসনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের এ্যাসিটান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমানসহ অনেকে।

লোহাগাড়ায় বিশাল জনসভা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাস্তবতা বুঝতে পেরেই অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাঘ মাসেই যদি মাথা এত গরম হয়, তাহলে চৈত্র মাসে কী হবে-এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চব্বিশ না হলে ছাব্বিশ হতো না। যারা চব্বিশকে স্বীকার করেছে, তাদের জন্যই ছাব্বিশ এসেছে। আর যারা চব্বিশকে স্বীকার করে না, তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, তার নেতৃত্ব দিয়েছে দেশের যুবসমাজ। “ডাকসু থেকে শুরু করে জকসু— সর্বত্র একই চিত্র। এই তরুণরাই আজ বাংলাদেশকে পথ দেখাচ্ছে এবং আগামীতেও দেখাবে,” বলেন জামায়াত আমীর।

দেশ গঠনে জামায়াতের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই মামলাবাজমুক্ত, ব্যাংক ডাকাতমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত রাষ্ট্র। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

সমবেত যুবকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন বেকার ভাতা নেবে নাকি কাজ করবে? এ সময় ‘কাজ, কাজ’ স্লোগানে মাঠ মুখরিত হলে তিনি বলেন, “চব্বিশের গণবিপ্লবে কোনো যুবক বেকার ভাতার জন্য রাস্তায় নামেনি। তারা বলেছে- আমাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি চাই, কাজ চাই।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা যুবক-যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করব না। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। তখন তারাই গর্ব করে বলবে -আমিই বাংলাদেশ।”

চব্বিশের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বোনদের ওপর হাত তোলা হয়েছে, সেদিন সারা দেশে আগুন জ্বলে উঠেছে। পরদিন ছয়জন বীর শহিদ হন। রংপুরে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছিলেন-গুলী কর। বীরেরা কখনো পালায় না, হয় বিজয়ী হয়, নয়তো শহিদ।”

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। “এই অর্থ ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এর বিচার হবে,” বলে তিনি ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের যুবকরাই বাংলাদেশকে নতুন পথ দেখাবে। নৈতিকতা, আদর্শ ও ত্যাগের মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ সঠিক পথ খুঁজে পাবে। এ দেশের যুবকরাই সেই পথ দেখাচ্ছে। তারা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি। প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে।”

তিনি বলেন, মা-বোনদের ত্যাগ ও অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে কোনো বেইমানি করব না। জাতির মুক্তির পথে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, একটি স্বৈরাচারী গোষ্ঠী বেআইনিভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। তবে জনগণের শক্তির কাছে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং দেশে এসব অপকর্ম আর চলতে দেওয়া হবে না।

দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর বিচার অবশ্যই হবে।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, বরং জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। কাউকে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মাথা গরম করে কোনো লাভ নেই। আমরা এখন জনগণকে নিয়েই ব্যস্ত।”

জনসভায় চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রাম থেকেই ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দ।

লোহাগাড়ার জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে জনসভা শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে আরেকটি জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।