রাজধানীর কচুক্ষেত থেকে মূল রাস্তা দিয়ে উত্তরের দিকে একটু এগুলেই পুলপাড়। পুলপাড় থেকে বাম দিকে ইব্রাহীমপুর বাজারের গলিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে শুভ্র শফেদ টুপি-দাড়ি ও পাঞ্জাবি ওয়ালা এক ব্যক্তির ব্যানার। তিনি ওই এলাকার বাচ্চাদের কাছে চকলেট দাদা,যুবকদের প্রিয়পাত্র আর সাধারণ মানুষের কাছে মানবতার ফেরিওয়ালা। তিনি-ই ডাক্তার শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ঢাকা- ১৫ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী।

শুধু ইব্রাহীমপুর নয়, কাফরুল-মিরপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের অলিতে গলিত এখন শোভা পাচ্ছে এই সাদা টুপি দাড়িওয়ালা মানুষটির নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। ৫ লাখের মতো ভোটার। এই আসনের ভেতর রয়েছে কিছু সরকারি-বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। উল্লেখ করার মতো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÑ মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের তিনটি শাখা, হার্ট ফাউন্ডেশন, বিআরটিএ। পাশেই ক্যান্টনমেন্ট এবং ভালো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি শেষে কাফরুল ও মিরপুর এলাকায় থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে এই এলাকার ভোটারের ৫০ ভাগের মতো সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা কর্মচারী। বাকীরা স্থানীয় অধিবাসী বাড়ির মালিক বলে জানান এলাকার মানুষ। মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস এই এলাকায় বেশি।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, ডা. শফিকুর রহমান কাফরুল এলাকায় বের হলেই পকেটভর্তি চকলেট নিয়ে বের হন। ছোট কারো সাথে দেখা হলেই তিনি চকলেট বিতরণ করেন। একারণে শিশুদের কাছে তিনি চকলেট দাদু হিসেবে পরিচিত। বেশি বেশি টেলিভিশনে দেখা যায় বলে শিশু থেকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবার কাছে পরিচিত তিনি। এছাড়া সবার আগে সালাম দেওয়া এবং সবার সাথে হাত ও বুক মিলানোর কারণে হয়ে উঠেছেন গণমানুষের প্রিয়পাত্র। শিশুরা দেখলেই বলে উঠেন আপনাকেতো টিভিতে দেখা যায়। আর কেউ পেছন থেকে ডাক দিলেও তিনি ফিরে এসে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আগে সালাম দেন। হাত মেলান এবং শিশু কিশোরদের আদর করে চুমু দেন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের ৪,১৩,১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনের মধ্যেই রয়েছে ৫টি প্রশাসনিক থানা। রয়েছে গ্রামীন ব্যাংকে হেড অফিস, কিডনি ফাউন্ডেশন ও বিআরটিএসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাফরুলের ইব্রাহীমপুর এলাকার ৪০ বছর ধরে বসবাস করা নূর আহম্মেদ মৃধাকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাচালক রুবেলকে সঙ্গি করে পুরো এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। কচুক্ষেত থেকে মিরপুর-১৪’র দিকে মূল রাস্তা ধরে এগুলে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর পর্যন্ত রাস্তার বাম পাশে সরকারি কোয়ার্টার আর ডান পাশে মান সম্মত বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। সীমানাতে রয়েছে ভাষাণ টেক, কালশীর একাংশ, মিরপুর সাড়ে এগার, চিড়িয়াখানা রোড, ১নং সনি সিনেমা হল, মিরপুর২ নম্বর, ৬০ ফিট রাস্তা। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে আগারগাঁও হয়ে রোকেয়া স্মরণির ভেতর দিয়ে শেওড়াপাড়া উত্তর ও দক্ষিণ কাফরুল রোড হয়ে বাম পাশে পুরোটাই ঢাকা -১৫ আসন।

চলতে চলতে সঙ্গে থাকা নূর আহম্মেদ মৃধা জানালেন ইতিমধ্যে বেশ কিছু জরিপ হয়েছে। প্রত্যেকটাতেই ইনশা আল্লাহ জামায়াত এগিয়ে রয়েছে। চায়ের স্টল বলেন, জন সমাবেশ বলেন সবখানেই এবার দাঁড়িপাল্লার পক্ষে আওয়াজ উঠছে। অটো রিকশাচালক রুবেলের মুখেও একই কথা। সারাদিন অনেক মানুষের সঙ্গেই দেখা হয়। জামায়াতের বিপক্ষে কথা শুনি না।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানালেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষ থেকে এলাকার মানুষের কাছে শান্তি সমতা আর ইনসাফের বার্তা পৌঁছাতে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। মানুষ সমাগম বেশি এমন স্থানগুলোতে শোভা পাচ্ছে ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী বিলবোর্ড। আর অলি গলিতে ব্যানার ফেস্টুন। কোন কোন জায়গায় অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য হলো বিলবোর্ড ছিঁড়লেও অন্তর থেকেতো মুছে দেওয়া যাবে না।

ঢাকা-১৫ আসনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় মার্কেট। এরমধ্যে শাহআলী সুপার মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নিউ মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেট অন্যতম। ব্যবসায়ীরা চান চাঁদাবাজী ম্ক্তু ব্যবসায়িক পরিবেশ। জামায়াতের এক নম্বর ওয়াদা হচ্ছে চাঁদাবাজীমুক্ত ব্যবসায়ীক পরিবেশ প্রদান করা। এজন্য এবার দাঁড়িপাল্লাকেই মার্কা হিসেবে বেছে নিতে চান মিরপুর-১০ এলাকার ব্যবসায়ীরা।

কথা হয় স্থানীয় লেপতোষক ব্যবসায়ী নান্নু মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রতিদিন অনেক মানুষের আনাগোনা। তাদের একটাই বক্তব্য সব দল দেখা শেষ। এবার নতুন চাই। সুযোগ পেলে দাঁড়িপাল্লাকেই ভোট দেবো। এদিন আসরের নামাজের পর দেখা হয় উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহসভাপতি বুরহান উদ্দিনের সাথে। তিনি জানালেন, মসজিদের মুসল্লিরাও এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবে বলে জানান দিচ্ছে। তারা জামায়াতের আমীরের মতো প্রার্থী পেয়ে আনন্দিত।

স্থানীয় ডেভেলপার ব্যবসায়ী ও সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান তপন দৈনিক সংগ্রামের সাথে আলাপকালে জানান, ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেলে ডা. শফিকুর রহমানের জয় নিশ্চিত। তালতলা এলাকার মসজিদের ঈমাম এনামুল হক জানালেন, ওই এলাকার শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে ভোট দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরের ৬০ফিট এলাকার মোল্লাপাড়ায় হাসান আলী রোডে শহীদ মীর কাসেম আলীর বাড়ি। সেখানে কথা হয় আমজাদ আলীসহ কয়েকজনের সাথে। শহীদ মীর কাসেম আলীর কথা স্মরণ করে অনেককেই আবেগ তাড়িত হতে দেখা যায়। তারা বলেন, দাঁড়িপাল্লাতো শহীদ মীর কাসেম আলীর প্রতীক। এবার ভোট দাঁড়িপাল্লাকেই দিবো।