বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য (রুকন) ও পলাশবাড়ী পৌর শাখার অফিস সেক্রেটারি মোঃ সামিউল ইসলাম (৩০) গতকাল (৩০ মে) ভোর ৪টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। তিনি পলাশবাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিধোন গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।

গত ২০ মে স্থানীয় ছোটশিমুলতলা পানবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একটি ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে ২৫ মে জ্বরজনিত কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২৬ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঐদিন তিনি বাসায় ফিরে আসেন এবং অপেক্ষাকৃত সুস্থ অবস্থায় ঈদ উদযাপন করেন। কিন্তু ঈদের পরদিন হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার লিভার জন্ডিস, কিডনি ড্যামেজ ও হার্টজনিত সমস্যার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ৩০ মে ভোর ৪টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেছেন।

গতকাল বাদ জোহর নিজ গ্রাম সিধোনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযায় গাইবান্ধা জেলা আমীর জনাব আবদুল করিম এমপি, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্ল্যাহপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, পলাশবাড়ি উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক ও সেক্রেটারি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইউসুফ কারযাভীসহ স্থানীয় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

আমিরে জামায়াতের শোকবাণী

সামিউল ইসলামের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি।

আজ (৩১ মে) এক শোকবাণীতে তিনি বলেন সামিউল ইসলামের ইন্তিকালে আমরা ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিত প্রাণ দাঈকে হারালাম। তিনি ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। আমি তাঁর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁকে ক্ষমা ও রহম করুন এবং তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন। তাঁর গুনাহখাতাগুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে নেকিতে পরিণত করুন। কবর থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রত্যেকটি মঞ্জিলকে তাঁর জন্য সহজ, আরামদায়ক ও কল্যাণময় করে দিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর শোকাহত পরিবার-পরিজনদেরকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।