শেরপুর জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন
বগুড়া অফিস ও শেরপুর সংবাদদাতা : গতকাল বৃহস্পতিবার বগুড়া ৬ ও শেরপুর ৩ আসনের উপনির্বাচনের ব্যাপক অনিয়ম এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক সন্ত্রাস ও ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বগুড়া অফিস : দিনভর নানা অনিয়ম, জালিয়াতির মধ্যদিয়ে বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করে আসছিলেন। নির্বাচনের দিন তার অভিযোগ বাস্তবে ফুটে উঠেছে। সারাদিন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আনাগোনা সেভাবে চোখে না পড়লেও দিন শেষে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট প্রদানের হার ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ভোট গ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এই উপনির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা চলছিল। প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা এগিয়ে ছিলেন।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ভেতরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। বিশেষ করে শহরের মাতলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল সিটে আগেভাগে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। এই ঘটনাটি কেন্দ্র করে প্রার্থী, ভোটার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। নির্বাচনী মাঠের বাইরে পরিস্থিতি বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক এবং শান্ত মনে হলেও ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন যে, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল সিট অর্থাৎ ফরম ১৬-তে আগাম স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। নির্বাচনের নিয়মানুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার ভিত্তিতে এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নূর ইসলাম, যিনি পেশায় সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষক, তিনি এই কাজটির পেছনে অদ্ভুত এক যুক্তি প্রদর্শন করেন। শুরুতে তিনি দাবি করেন যে, কাজের চাপ কমাতে এবং সময় সাশ্রয় করতে তিনি কেবল আগেভাগে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি মেনে নেন যে, ফলাফল নির্ধারণের আগেই সিটে স্বাক্ষর নেওয়া একটি দন্ডনীয় অপরাধ এবং এটি নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক বিতর্কিত সেই ফরম ১৬ জব্দ করেন এবং উপস্থিত সকলের সামনে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হয় জামায়াতের পক্ষ থেকে। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এই বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার এই বিতর্কিত আচরণের বিস্তারিত বিবরণ ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে। কমিশন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের অনিয়ম ছাপিয়ে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটারদের অনীহা। উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সকাল দশটা পর্যন্ত গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়।
সদরের ফাঁপোর, নামুজা, নুনগোলা, গোকুল ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে ভোটার উপস্থিতির হার একেবারে নগণ্য দেখা গেলেও দিন শেষে রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ভোট প্রদানের হার ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। দুপুর ১২টায় রিটার্নিং অফিস জানায় ভোট প্রদানের হার ১৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুপুর ২টায় ভোট প্রদানের হার জানায় ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অথচ সরেজমিনে এই দুই ঘন্টায় ভোট কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েনি। অথচ সন্ধ্যায় ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তথ্য জানায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। ভোটার উপস্থিতির বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) প্রার্থী প্রধান এজেন্ট আব্দুল হালিম জানান, “নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখে অবাক হয়েছি। দিনভর অসংখ্য কেন্দ্রে ভিজিট করে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক মনে হয়নি। কিন্তু দিনশেষে ভোটার উপস্থিতির যে চিত্র দেখানো হলো তা অবিশ্বাস্য।” জামায়াতে ইসলামীর উপনির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুস ছালাম তুহিনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান।
ভোট গ্রহণ শেষের আগমুহূর্তে দলীয় অফিসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে, কর্মীদের হুমকি দেয়া হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলেও তা অতিরিক্ত দেখিয়ে ফল জালিয়াতির চেষ্টা চলছে। ডিসি ও এসপি সহযোগিতা করলেও রিটার্নিং অফিসারের কারণে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপি প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়ার আশংকা করছি। বিকেলে শহরের নূরানী মোড়ে এক জামায়াত কর্মিকে চাকু মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না এটা আরেকটি প্রমাণ। কিন্তু এভাবে নির্বাচন না করলে বিএনপির কোন ক্ষতি হতো না। এতে সরকারের কলংক লেগে গেলো।’
এদিকে, বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। ভোটগ্রহণ শেষে তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে সরকারি দল বিএনপি কেন্দ্র দখল, প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক আগাম রেজাল্ট শিট স্বাক্ষর, মহিলা পোলিং এজেন্টদের হুমকি প্রদান, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র হতে বহিষ্কার, নির্বাচন কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে মিছিল এবং পর্যায়ক্রমে ভোট কেন্দ্র থেকে বিরোধীদল বিতাড়ন করে বেলা ২টার পর থেকে নির্বিঘ্নে জাল ভোট প্রদানের মাধ্যমে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। প্রকৃতপক্ষে সরকারি দল বিএনপি এবং তাদের অনুগ্রহ প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার এই উপ-নির্বাচনকে সর্বময় একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত করেছে।” তিনি বলেন, “ফলাফল ঘোষণা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আমরা এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার একটিই কারণ তা হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং বর্তমানের বিএনপি যে বিরোধী দলের স্বাধীন মতামতের অধিকারে বিশ্বাস করে না তা জাতির সামনে তুলে ধরা। মূলত: দিনব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যমে বগুড়ার উপ-নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে দৃশ্য বগুড়াবাসী তথা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে তাতে এ কথা প্রমাণ হয়েছে যে, সরকারি দলের তত্ত্বাবধানে কোন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” উপ-নির্বাচনে শত ভয়-ভীতি,হ্রাস ও কালো টাকা উপেক্ষা করে যে সকল ভোটারগণ ভোট প্রদান করেছেন তাদেরকে আরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ জানিয়েছেন আবিদুর রহমান সোহেল। বিবৃতিতে তিনি গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
শেরপুর সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৪৫, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া ৯এপ্রিল, বৃহস্পতিবার নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া, সংঘবদ্ধভাবে বিএনপি নেতা কর্মীদের নেতৃত্বে জামায়াত কর্মীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে মারাত্মকভাবে জখম, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও প্রশাসনের সামগ্রিক অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ এনে শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মাসুদুর রহমান আজ বিকাল ৩টার সময় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারী ও শেরপুর-৩ নির্বাচনী আসনের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া ভিপি, শেরপুর জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট মনোবিদ মোখলেছুর রহমান, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আজহারুল ইসলাম মিস্টার, উপজেলা সেক্রেটারী ইয়াকুব আলী মোশাররফ, শ্রীবরদী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা তাহেরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শেরপুর জেলা সভাপতি মাশহারুল ইসলাম মিল্লাত, ঢাকাস্থ শ্রীবরদী কল্যাণ ফোরামের সভাপতি কৃষিবিদ জাকারিয়া মাহমুদ বুলবুল, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি শামছুর রহমান সাজু, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শূরা সদস্য ও কলাবাগন পশ্চিম থানা আমীর মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল পশ্চিম থানা সেক্রেটারী মোঃ রাশেদুল ইসলামসহ জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মাসুদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ সকালে সাড়ে ৭টা থেকে ১২৮টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভোট শুরুর আধা ঘন্টা পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিদর্শন করে ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ থেকে প্রাপ্ত যে সকল অভিযোগ পেয়েছি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরেছি।
খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের লঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২য় তলায় উত্তর লঙ্গরপাড়া পুরুষ বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ খায়রুল আলম ভোটার উপস্থিত হওয়ার পূর্বে ব্যালটের পিছনে একাধিক সিল ও স্বাক্ষর করে রেখেছেন। বিষয়টি জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান জানতে চাইলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ খায়রুল আলম ভুল স্বীকার করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে এমন হবেনা মর্মে প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ আব্দুর রউফ এর সামনে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের লঙ্গরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি বুথের ব্যালটগুলোতে পূর্ব থেকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারগণ ব্যালটে সিল ও স্বাক্ষর করে রেখেছেন। বিষয়টি বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদ আলমকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারগণ অন্যায় করেছেন বলে স্বীকার করেন ও তাদেরকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেন। জামায়াত প্রার্থীকে তিনি পরবর্তীতে ব্যালেট আর কোনও সিল মারা হবেনা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খড়িয়া কাজির চর ইউনিয়নের পোড়াগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষের এজেন্ট মোছা: রোজিনা বেগম নিজ হাতে ভোটারদের ব্যালটে সিল দিয়ে ব্যালট বক্সে ফেলেন। প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের মামদামারী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি নেতা কাজী আবু তাহের ভোটারদেকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করেন। এ বিষয়ে জামায়াতের পোলিং সাইফুল মালেক বিরত থাকতে বললে এক পর্যায়ে ধাক্বাধাক্বির ঘটনা ঘটে ও জামায়াত কর্মী মোতাহারসহ আনুমানিক ১৫/২০ জন জামায়াত নেতাকে হামলা করে আহত করা হয়। এই কেন্দ্রে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান উপস্থিত হয়ে প্রত্যেকটি বুথের ব্যালেটের অপর পার্শ্বে সিল ও স্বাক্ষর করার বিষয়টি অবহিত করলে তারা ভুল স্বীকার করেন।
শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীবরদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদের উপর হামলা ও মারধর করা হয়। বালুঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মান্নান সরকার, শাহীন, আব্দুল কুদ্দুস মেম্বার ও সাবেক মেম্বার মজিবর রহমানের নেতৃত্বে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় ও জোড়পূর্বক কেন্দ্রে প্রবেশ করে জালভোট প্রদান করেন।
শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের দহেরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দারাব উদ্দিন রেজা, বিএনপি নেতা সুজন, সাদ্দাম, ফরিদ ও তুষারের নেতৃত্বে ভোটারদে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করেন ও জাল ভোট প্রদান করেন।
শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের নয়ানী শ্রীবরদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি ক্যাডার খোকা, দেলোয়ার, মঞ্জুরুল, নূর ইসলাম, চৌকস পত্রিকার সাংবাদিক কার্ডধারী সোহেল রানার নেতৃত্বে অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরকে দিয়ে জাল ভোট দেয়ার তথ্য প্রশাসনকে অবহিত করলে জামায়াত কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা করে। সংঘবদ্ধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে জালভোট প্রদান ও প্রকাশ্যে ধানেরশীষ প্রতীকে সিল মারতে বাধ্য করে। দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করার পরও বিএনপি নেতৃবৃন্দ ক্ষিপ্ত হয়ে ২য় দফায় পুনরায় হামলা করে। শিবির কর্মী মাজহারুল ইসলাম জোবায়েরকে মারাত্মকভাবে আহত ও জখম করেছে।
শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা নজরুল, ইউনিয়ন যুবদল নেতা কবির, বিএনপি কর্মী পান্না, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকাশ, আব্দুর রশিদ ভুট্টু মাস্টার ও আমজাদের নেতৃত্বে জাল ভোট দেয়ার সময় বিএনপি নেতা আমজাদকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে থাকা টহল টিম আটক করে নিয়ে যায়।
শ্রীবরদী পৌর এলাকার শ্রীবরদী ইসলামিয়া কামিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল, শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী অকুল, শ্রীবরদী পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোভন শাহরিয়ার রাফি, বিএনপি নেতা প্রণব, সাবেক ছাত্রদল নেতা রাজু, সাবেক ছাত্রদল নেতা জিয়াউল সহ বিএনপি নেতা কর্মী প্রত্যেক বুথ দখল করে ভোটারদেরকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করেন। শ্রীবরদী পৌর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাসুদুর রহমানের ভাগিনা আস সাদিক (মিতুল) কে নির্বাচনের পরের দিন বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি দেন, ভয়ভীতি দেখান ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেন, প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারতে থাকেন। সামগ্রিক বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আমীর হামযা মিস্টার প্রশাসনকে অবহিত করতে গেলে প্রশাসনের সামনে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও শ্রীবরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতা কর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা করে মারাত্মাকভাবে আহত ও জখম করেন। বর্তমানে জামায়াত নেতা আমীর হামযা মিস্টার শেরপুর সরকারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শ্রীবরদী পৌর এলাকার শ্রীবরদী সরকারী কলেজ কেন্দ্রে জামায়াতের ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় শ্রীবরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম রাজনের নেতৃত্বে প্রায় এক থেকে দেড়শ জন বিএনপি নেতা কর্মী জামায়াত কর্মীদের হাতে থাকা ভোটার তালিকা, সিল্প, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। সরকারী কলেজ কেন্দ্র থেকে জামায়াতের এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়।
শ্রীবরদী আকবরিয়া পাবলিক পাইলটন ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এসএম সোহান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ কায়সার নেতৃত্বে জাল ভোট প্রদান করা হয়। দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদেরকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বুথ থেকে বের করে দেয়া হয়। দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জালভোট প্রদানকারীদের আটক করে প্রশাসনের হাতে দেয়ার পর কিছুক্ষণ পর প্রশাসন তাদেরকে ছেড়ে দেয় এবং পুনরায় দলবদ্ধভাবে জাল ভোট দিতে লাইনে এসে দাঁড়িয়ে যায়।
শ্রীবরদী পৌর এলাকার তাতিহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শ্রীবরদী পৌর বিএনপিএর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আনিসুজ্জামান খোকনের নেতৃত্বে জাল ভোট দিতে গেলে জামায়াতের এজেন্টরা বাধা প্রদান ও প্রতিবাদ করলে তাদের উপর বিএনপির নেতা কর্মীরা সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।
ভেলুয়া ইউনিয়নের ঝগড়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান এক বিএনপি কর্মীকে হাতেনাতে আটক করে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। সকাল থেকেই ঝগড়ারচর কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে।
ভেলুয়া ইউনিয়নের ঝগড়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। এখানে জাল ভোট, বিএনপি নেতা কর্মীদের অযাচিত আনাগোনা দেখা যায়।
ভেলুয়া ইউনিয়নের শিমুলচুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের নেতৃত্বে জামায়াত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বুথ কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির জুয়েলকে অবহিত করা হলে কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের গড়খোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে জামায়াত এজেন্টদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বুথ থেকে বের করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসনকে অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
রাণীশিমূল ইউনিয়নের টেঙ্গরপাড়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা সেতুর নেতৃত্বে জাল ভোট দিতে গেলে জামায়াতের এজেন্টরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তাতিহাটী ইউনিয়নের শালমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি লোকজন অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিয়ে জালভোট দেয়ার সময় জামায়াতের এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রতিবাদ ও অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার পায়নি। বরং তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তাতিহাটী ইউনিয়নের বকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাতিহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বার রফিকুল ইসলাম আন্ডা, সওদাগর, শফিকুল ইসলাম ও বেলাল নেতৃত্বে জাল ভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার প্রতিবাদ করলে জামায়াত ভোটারদের ওপর হামলা করে জামায়াত কর্মী সিরাজুল ইসলামকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় ও জামায়াত কর্মী আবীর হোসেন, মোঃ আফসার আলী, হাফেজ আতিকুর রহমান ও ইয়াকুব আলী মোশারফকে হামলা করে আহত করা হয়। জামায়াত কর্মী সিরাজুল ইসলাম শ্রীবরদী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শেরপুর সদর সরকারী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন।
তাতিহাটী ইউনিয়নের পোড়াগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক, রাজু, যুবলীগ নেতা রিপনের নেতৃত্বে জোরপূর্বক কেন্দ্রে প্রবেশ করে জালভোট প্রদান করেন। ভোটারদেরকে প্রকাশ্যে ধানেরশীষে সীল মারতে বাধ্য করেন। জামায়াতের এজেন্টদেরকে বুথ থেকে বের করে দেয়া হয়।
গোশাইপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জাল ভোট প্রদান করেন। উপস্থিত ভোটারদেরকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করে।
কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগত শেরপুর পৌর ছাত্রদলের নেতা খালিদুজ্জামান সিদ্দিকী আসিফের নেতৃত্বে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদান করা হয়।
ঝিনাইগাতি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতা কর্মীরা জাল ভোটা দিতে থাকলে তাদেরকে আটক করা হলে জামায়াতের এজেন্টদের উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। জামায়াতের এজেন্ট তাজুল ইসলামকে ব্যাপক মারধর করে মারাত্মকভাবে আহত ও জখম করে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহীদ মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলার আসামী আরেফিন সোহাগ সহ কয়েকজন বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জালভোট প্রদান ও প্রকাশ্যে সিল মারা হয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র বিএনপি নেতা নূরনবী জামায়াতের এজেন্ট মোঃ সোলায়মান কে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথ থেকে এজেন্টদেরকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। পরবর্তীতে দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট মোঃ সোলয়মানকে আক্রমণ করে আহত করা হয়।
শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী গোলাম কিবরিয়া ভিপি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাছির উদ্দিন সুষ্ঠু ভোটের যে কথা উল্লেখ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পূর্বেই প্রশাসন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের ওয়াদা করেছিল প্রশাসন তা পালন করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। জাল ভোট প্রদানকারীদেরকে আটক করে প্রশাসনের কাছে তুলে দিলেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। জামায়াত শিবির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার ঘটনা প্রশাসন আমলে নেয়নি। সরকার নব্যফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে এ সরকার প্রতারণা করেছে। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপেরে বিষয়টি অবহিত করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।