আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি এসেছি সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে গোট দেশ ও জাতি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠ হয়ে। পিতাহারা শিশুদের এতিম শিশুদের দুঃখের গল্প শোনাতে। মজুলমদের পক্ষে কথা বলতে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি ) সকালে গাইবান্ধায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বয়ে চলা নদীগুলোতে এক সময় জাহাজ চলত, এখন আর নৌকাও চলে না। নদীর পানি উবে গিয়ে এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন-

১. অতীতের সরকাগুলো উপেক্ষা, উদাসীনতা অবহেলা করে গোটা নর্থ বেঙ্গলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

২. গোটা দেশ ও উত্তরবঙ্গের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন এবং ভোটে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি তাহলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলোতে।

৩. আমরা গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই।

৪. আধিপত্যবাদের ছায়া আমরা দেখতে চাই না। বিশ্বের সকল সভ্য দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কেউ এস খবরদারি করুক তা দেখতে চাই না।

৫. ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী শাসন আমরা দেখতে চাই না। আমূল পরিবর্তন চাই।

৬. ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট সফল হলে সাধারণ ভোট সফল হবে। গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখাতে হ্যাঁ বলতে হবে।

৭. জুলাই আন্দোলনের শহীদরা চেয়েছিল একটি আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফের ও উন্নয়নের বাংলাদেশ।

৮. শকুনের ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে পড়তে না পারে।

৯. যুব সমাজ জীবনে একটিও ভোট দিতে পারে নাই।

১০. বস্তাপচা যে ব্যবস্থা- হত্যাকারী, খুনী, মামলাবাজ, দখলবাজ, ধর্ষক বানায় তা পরিবর্তনের জন্য জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।

১১. উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে।

১২. জামায়াত নির্বাচিত হলে ঘরে বসে জনগণ উত্তরবঙ্গকে রাজধানী করতে পারবে।

১৩. শিক্ষা দিয়ে যুবক-যুবতীদের হাতকে দক্ষ করে গড়ে তুলবো। পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা শিল্পসমৃদ্ধ করতে চাই।

১৪. উত্তরবঙ্গ খাদ্যভান্ডার

১৫. চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায় না। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করব।

১৬. চাঁদাবাজদেরও কাজ দিয়ে সম্মানের সাথে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে-যাতে তারা আর কোথাও লজ্জিত না হয়।

১৭. পর্যায়ক্রমে সব জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।

১৮. উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সকলের হাতে হাতে কাজ নিশ্চিত করা হবে। আমরা মরুভূমির নয় উর্বর বাংলাদেশ দেখতে চাই।

১৯. আমাদের নেতারা ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ছিলেন- ফাঁসিতে ঝুলেছেন। আমরা জালিমের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাবো না। সুখে দুঃখে আল্লাহর উপর ভরসা করে দেশবাসীর সাথেই থাকবো, ইনশাআল্লাহ।

২০. শিশুদের মেধাবিকাশের বাংলাদেশ গড়তে চাই। তরুণ-তরুণীর, যুবক-যুবতীদের জন্য স্বপ্ন বাস্তবায়নের হাত হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে চাই। মায়েদের ঘরে ও বাইরে নিরাপদে ও সম্মানের সাথে চলাফেরা নিশ্চিত করতে চাই।

২১. উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, কিন্তু তা নাই। আমরা মনে করি যাছাই বাচাই করে গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে। ইপিজেড করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। এ অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বাজারজাত ও বিশ্ববাজার ধরার জন্য ইপিজেড বাস্তবায়ন করা হবে।

২২. বালাশী ঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

২৩. চুরির টাকা ফেরত ও নতুন চোরদের হাত অবশ করে দিলে দেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে।

২৪. সকল নদীকে আপন করে তুলে নেবো, লালন-পালন করা হবে। নৌযান চলাচলা উপযোগী করা হবে।

পরিশেষে গাইবান্ধা-১ আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনে- গাইবান্ধা জেলা আমীর আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যক্ষ মাওলনা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ আসনে ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ-এর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।