স্টাফ রিপোর্টার,গাজীপুরঃ

গাজীপুরে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, আর্থিক অনিয়ম, চেক সংক্রান্ত মামলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, কনস্টেবল শাহীন নুর আলম গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে তৎকালীন ও পরবর্তী সময়ের সব পুলিশ কমিশনারের বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্ব ও পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে ঢাকার উত্তরা জোনে এসবিতে বদলি করা হলেও, আগের দায়িত্ব ও যোগাযোগ এখনো প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি এখনো ফোনকল ও পরিচয়ের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শাহীন নুর আলম ও তার সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও ভয়ভীতির শিকার। গত ১২ অক্টোবর বাসন থানায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সেলিমের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোন ও চেক ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪২ লাখ টাকার চারটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

মামুনের অভিযোগ, মামলাগুলো নেত্রকোনায় দায়ের করা হয়েছে, যা তাকে মানসিক ও ভৌগোলিকভাবে চাপে রাখার কৌশল। এছাড়া গাজীপুরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এলাকায় সুদের লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ঋণের বিপরীতে ব্ল্যাংক চেক ও কাগজ নেওয়া হয় এবং পরে সেগুলো নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে আতঙ্কে কেউ কেউ এলাকা ছেড়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তবেই জনআস্থা ফিরবে।