জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) সদস্যদের ওপর হামলা ও কক্ষ দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে বিগত ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। হামলার পর ‘অসুস্থতার নাটক’ সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই অভিযুক্তদের দেখতে গিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিক কৌশলে ছাত্রদলের একটি অংশের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেন। একটা সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সমিতির সাধারণ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এই পক্ষটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূলত সমিতির কক্ষ দখল এবং সমিতির কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় অংশ নেওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মিলন হোসেন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মাহমুদুর রহমান নাজিদ, প্রথম আলোর শাহাদাত হোসেন অনু'সহ আরও কয়েকজন বর্তমানে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে সমিতির সদস্যদের দাবি, হামলা চালিয়ে নিজেদের ভুক্তভোগী দেখাতেই তারা হাসপাতালে ‘অসুস্থতার অভিনয়’ করছেন।

এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ায় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ভূমিকাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, যারা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিপক্ষে ছিল, তাদের পুনর্বাসনে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতার এই সংহতি বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রলীগের হয়ে দালালি করেছে, আজ তারা সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। আর তাদেরই রক্ষা করতে হাজির হচ্ছেন ছাত্রদলের সভাপতি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।"

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে ছাত্রদলের সদস্যরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। এসময় লাঠিসোটা, ও চেয়ার দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তারা। হামলার সময় অবকাশ ভবনের নিচে নেতাকর্মীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ। এই অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়। হামলায় সরাসরি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে জবি ছাত্রদলের সিদ্দিক ইমরোজ, ইয়াসিন সাইফ, জয় সাহা, বাঁধন সহ আরো অনেকে। এসময় জবিসাস এর সাংগাঠনিক সম্পাদক জুনায়েত শেখ, বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জবি প্রতিবেদক জান্নাতুন নাইম, সময়ের আলোর জবি প্রতিবেদক মোশফিকুর রহমান ইমন, জবিসাসের দপ্তর সম্পাদক ও যুগান্তরের জবি প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলম সহ আরো অনেকে আহত হন।