রাজধানীতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে তার নেতৃত্বে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় গণমিছিলটি রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা থেকে শুরু হয়ে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১৩ হয়ে মিরপুর-১৪ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন- দল, গোষ্ঠী কিংবা পরিবারের বিজয় মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
তিনি বলেন, জনগণের প্রকৃত বিজয় নিশ্চিত করতে হলে দেশে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেই তারা সেই পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।
গণমিছিলে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে যারা বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের এই ষড়যন্ত্রকে আমরা ভয় পাই না। তিনি সকলকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা আমাদের প্রধান শক্তি। তোমাদের হাতে আগামীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দিতে চাই। তিনি তরুণদের রাজনীতি ও নেতৃত্বে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দেশবাসীর উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকলে ঐক্যের বিজয় হবে। ঐক্যের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনী গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবীর, আসন কমিটির পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মুসা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং জাহিদুল ইসলাম।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসন কমিটির সদস্য সচিব শাহ আলম তুহিন, সংশ্লিষ্ট থানা আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
গণমিছিলে ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পুরো কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।