বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে আবারও পেছনে টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক চক্রান্ত চলছে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সোমবার বিকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন।
মির্জা বলেন, অনেক চক্রান্ত আছে, অনেক ষড়যন্ত্র আছে, বাংলাদেশকে আবার পিছনে টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক রকম চক্রান্ত আছে, সেখান থেকে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। আপনারা যারা আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবাই মিলে আসুন আমরা আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে যার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, ১৯৯০ সালে যার জন্য লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, ২০২৪ সালে যার জন্য আমার ছেলেরা রক্ত দিয়েছে, আসুন আমরা সেই বাংলাদেশকে আমরা আবার সবাই মিলে গড়ে তুলি। তবে তার প্রতি আমাদের নেত্রীর প্রতি সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের ওপর ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবাসসহ নানা ঘটনা তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতা পাঠ করে শুনান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে তিনি (খালেদা জিয়া) জাগিয়ে তুলেছিলেন, একটি জাতিকে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তার এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করবে এবং আমরা সবাই ঐক্য মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব। গণতন্ত্রের প্রতি, দেশের উন্নয়নের প্রতি, জনগণের কল্যাণের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার একাগ্রতার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানসহ ব্যবসায়িক নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপিরি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থই ছিল খালেদা জিয়ার কাছে সর্বাগ্রে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময় অনেক নেতা ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থে রাজনীতিতে আপস করেছেন। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্রের স্বার্থই ছিল তার কাছে সর্বাগ্রে।