আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ায় কমিশন এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কমিশন কোনো চাপের মুখে আছে কিনাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা কোনো মহল থেকেই কোনো চাপ পাইনি। সংবিধান অনুযায়ী যে দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে, তা আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পালন করছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরপিওতে নতুন ধারা ও কঠোর বার্তার বিষয়ে কমিশনার জানান, কোনো অযোগ্য প্রার্থী ভুল তথ্য দিয়ে নির্বাচিত হলেও পার পাবেন না। ২০২৫ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নতুন একটি ধারাÑ ৯১এফÑ সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও যদি কোনো প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য ধরা পড়ে, তবে কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশ ভালো ও সন্তোষজনক রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো সব দিক থেকেই কমিশনকে সহযোগিতা করছে, যা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ করতে পারছেন মানেই
লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড আছে: ইসি সচিব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নেইÑ বিভিন্ন প্রার্থীর এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, “অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আছে বলেই তো আপনারা অভিযোগ করতে পারছেন। না থাকলে কি এটা সম্ভব হতো?”
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রচারণার গোলযোগ নিয়ে ইসি সচিব বলেন, “৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০০টি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ কাজ করছে। কারো কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি এই কমিটির কাছে বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানান। আমাদের কাছে অনুলিপি (কপি) দিন, আমরা ফলোআপ করবো। কিন্তু আমাকে যদি ব্যক্তিগতভাবে ঘুরে ঘুরে সব দেখতে বলেন, তবে তা হবে ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩ আসনে কিছু অবৈধ পোস্টার নজরে আসায় রিটার্নিং অফিসারদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ৪১ জন বিদেশি কূটনীতিক ও মিশন প্রধানকে ব্রিফ করেছে ইসি। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “কূটনীতিকদের মূল কৌতুহল ছিল নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কমান্ড স্ট্রাকচার এবং ফলাফল ঘোষণার সময় নিয়ে। আমরা তাদের জানিয়েছি, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে পুলিশের কাছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।”
ইসি সচিব জানান, এবার প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সাধারণত ভোট গণনা শেষ হতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। প্রবাসী ও পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি লাগবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রবাসীদের ব্যালট পেপার এ-ফোর সাইজের এবং এতে উভয় পাশে তথ্য থাকে, যা স্ক্যান করে গণনা করতে হয়। প্রতিটি সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য একটি করে নির্দিষ্ট কেন্দ্র থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট একটি কেন্দ্রে স্ক্যান করে গণনা করা হবে।
সচিব আরও জানান, সাংবাদিকরা হচ্ছে নির্বাচনের ‘চোখ’। ঢাকা শহরের বিশাল কর্মযজ্ঞে সাংবাদিকদের তথ্য ও প্রতিবেদন ইসিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বড় সহায়তা করবে।