রেজাউল করিম রাসেল কুমিল্লা অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আধিপত্যবাদ মানবো না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী কাজে লাগাবেন কিনা সেটা চিন্তা করবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমের দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’
দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছো।’
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোন জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন। চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন।’জামায়াত আমীর বলেন, ‘আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদীদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাবো, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেবো, পারলে ঠেকাও।’
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করবো। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।’
তিনি গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন। এছাড়া তিনি কুমিল্লা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন এর সমর্থনে নিমসার উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, কুমিল্লা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল এর সমর্থনে এবং দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে নির্বাচনী সমাবেশ বক্তব্য রাখেন।
চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠ এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম আসনের ১১দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সেক্রেটারি অনিল চন্দনাথ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোতাসির বীন সাকির, জাতীয় নাগরিক শক্তির যুগ্ম আবু সুফিয়ান, শহীদ সাহাবুদ্দিনের পিতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক শাহী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোঃ নুরুল ইসলাম মোল্লা।
এবার পার্শ্ববর্তী দেশ হস্তক্ষেপের চেষ্টা
করলে প্রতিহত করা হবে- নাহিদ ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে আসছে মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এবার হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে। গতকাল শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই নির্বাচন জুলাই আকাক্সক্ষার ধারাবাহিকতা। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা। এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদকে বিদায় করার জন্য। আমরা দেখেছি পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে আসছে। তারা বলেছে ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না। গত ১৬ বছর তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, কারা ক্ষমতায় আসবে তার নির্ধারণ করবে একমাত্র জনগণ। আধিপত্যবাদ যদি এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে জনগণ দাঁড়াবে। সারা দেশে ১১ দলের প্রার্থী যারা রয়েছে তাদেরকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। তাহলে দেশের মানুষের স্বপ্ন, শহীদ ওসমান হাদীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
নাহিদ বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন শহীদ ওসমান হাদী। এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে জুলাই যোদ্ধারা। আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার আমরা এ বাংলার মাটিতে করব। আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। জনগণের সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। আমরা সাম্য মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।
কেরাণীগঞ্জ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে গেলে যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা আসলে মানুষ নয়। আল্লাহ না করুক তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের পরিবেশ কেমন হবে চিন্তা করুন! মা বোনরা ঐক্যবদ্ধ- আগামী ১২ তারিখ এর ফল দেখতে পাবেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়াক নাহিদ ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহনগরী আমীর আব্দুল জব্বার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মশিউল আলম ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এনসিপির ঢাকা জেলা সমন্বয়ক রাসেল মোল্লা, ছাত্রশিবিরের ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি মাহমুদ আল সিয়াম, এনসিপির ঢাকা-২০ আসনে এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাশদিদ, ঢাকা-১৯ আসনে প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যরিস্টার নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি চিন্তা করেনি ফ্যাসিস্টরা অপদস্ত হয়ে বাংলাদেশে ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন হবে। জাতি চিন্তা করেনি ছোপ ছোপ রক্ত ও সারি সারি লাশ থেকে রেহাই পাবে। তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তারাই বাংলাদেশের ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ারবাজার লুট করেছে। জনগণেরে পকেট কেটেছে, দেশকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে ও দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, জুলাই স্মৃতিঘরে স্বৈরাচারের আয়না ঘরের অনেক প্রটোটাইপ করে রাখা হয়েছে। আগামীতে যারা দেশ পরিচালনা করবেন তাদের দেখে আসা উচিৎ। মানুষের সাথে জুলুম করলে কি পরিণতি হতে পারে, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
তিনি বলেন, দেশকে যারা ভালোবাসে তারা মানুষকে শান্তি দিতে চায়, আর যারা দেশকে ভালোবাসে না তারা মানুষকে কষ্ট দেয়। জামায়াতের শীর্ষ ১১ জনকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। দলের সব অফিস সাড়ে ১৩ বছর বন্ধ রাখা হয়েছে। ১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকেও হত্যা করা হয়েছে। নেতাকমীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়েছে, শেষ পর্যন্ত দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দলের ভূমিকা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা প্রতিশোধ নেব না বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের অনুরোধে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্ষতিদগ্রস্ত অফিস ও অন্যান্য স্থাপনা দিনে-রাতে ১৫ লক্ষ নেতাকর্মী সারা দেশে পাহারা দিয়ে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রীরা তারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দেশের মানুষের রক্ত ও সম্পদ নিয়ে খেলা করেছেন। এরা স্বার্থপর, মুনাফেক, এরা যা বলত তা করত না। অনেককে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্মা নদীতে ফেলা হয়েছে। যাদের হত্যার পর শরীরে ইট বেঁধে বা বুক চিরে ইটে ঢুকিয়ে কিংবা সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়া হতো। এমনকি অনেক লাশ কেটে মাছের খোরাকে পরিণত করা হয়েছে।
জুলাইকে স্বীকৃতি না দেয়ার ষড়যন্ত্র করা একটি দলের সমালোচনা করে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা আশা করিছিলাম তারা জুলাইকে সম্মান করবে। কিন্তু শহীদ পরিবারের সদস্যদের অসস্মান করা হয়েছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে, তাদের পাত্তাই দিলো না।
মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাদের বর্তমান দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সম্মান করার মানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিরীহ মানুষের জমি দখল ও মামলা বাণিজ্য, মায়ের গায়ে হাত দেয়া হতে পারে না- এটি জুলাই চেতনার সাথে যায় না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও সংস্কারে জন্য গণভোট বিষয়ে তারা সামনে আগাতে দেয় না। পরে যখন জনগণ ঠেলা দিয়েছে তখন অর্থাৎ গতকাল থেকে তারা গণভোটের বিষয়ে কথা বলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, জুলাই না হলে ২০২৬ সালে কিসের নির্বাচন, জুলাই না হলে তো ফ্যাসিবাদের অধীনে ২৯ সালে নির্বাচন হতো। ২৬ সালে নির্বাচন চাইব আবার জুলাই মানবো না, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না এটি হতে পারে না।
পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা বলেছি- বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। মা-বোনদের ইজ্জত প্রতিষ্ঠা করব। ব্যাংক ডাকাতি শেয়ারবাজার লুট বন্ধ করব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা নিজেরা বছরের পর উধাও হয়েছিল, তারাই আবার মজলুমদের বলে গুপ্ত আর সুপ্ত। বাদ দেন এগুলো, সমালোচকদের আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দেন তিনি। গণভোটে দলের দাবির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণভোটটি আগে হোক। তাহলে গণভোট সুন্দর হবে, জাতীয় নির্বাচনও সুন্দর হবে।
যুব সমাজের উদ্দেশে আমীরে জামায়াত বলেন, যারা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবসমাজের অধিকার না দেয়ার কারণে তারা পালিয়ে গেছে। তাদের হাত গড়ে দেবো ও সম্মানের কাজও তুলে দেবো। বেকারভাতার কথা বলে তারা আমাদের যুব সমাজকে অপমান করতে চান। তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের জয় হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি না মানে গোলামী। আমরা আবরার ফাহাদ ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। পরে তিনি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন। এরাই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। আর কেউ আমাদের প্রার্থী নেই, বলেন ডা. শফিকুর রহমান।