নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা মামলা করে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে পারবেন না। দেশের জনগণ নীরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতিমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। একথা বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর বাস টার্মিনালে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমীর ডক্টর নুরুজ্জামন প্রামানিকের সভাপতিত্বে সেক্রেটারি সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর ও পাবনা- ৪ (ঈশ্বরদীম-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, সংগঠনের বগুড়া অঞ্চলের অন্যতম টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মওলানা জহুরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুল গাফফার খান, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলনের ঈশ্বরদী উপজেলা আমীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান, পৌর আমীর গোলাম আযম, সগীর বিন নাসির ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাবনা জেলা সভাপতি মুন্নাফ হোসেন। জনসভায় জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ, এস এম সোহেল, উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নকিবুল্লাহ, সাবেক আমীর মাওলানা আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সরকার পরিচালনার সকল ব্যবস্থা পুনরায় ঢেলে সাজানো হবে, দুর্নীতি মুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা শাসক হব না, জনগণের পাশে সেবক হিসেবে থাকতে চাই। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারখানা স্থাপন করবো, ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে কর্মমুখী সম্পদে পরিণত করব । ফলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হবে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, গুলী করে ইসলামী আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। চাঁদাবাজ দখলবাজদের প্রতিহত করা হবে। তিনি আরো বলেন, আপনাদের সাথে নিয়ে ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই এজন্য আপনাদের সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশা করি। বিশেষ অতিথি মনজুরুল ইসলাম বলেন, সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা এখনো জনগণকে ভয় দেখাচ্ছে, জনগণ এখন হুমকি ধুমকিতে ভয় পায় না, দেশের জনগণ এখন জেগে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে হামলা মামলার সুমচিত জবাব দিতে হবে। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের আগামী নির্বাচনে বর্জন করুন।

প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, ৫৪ বছরের সরকারসমূহ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই, অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি চাঁদাবাজে দেশ ভরে গেছে। হত্যা, গুম, খুন, জুলুম নিত্যদিনের ঘটনা। এসব থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চায়। দেশের গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল-এর দাঁড়িপাল্লা মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, যত্রতত্র ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই, ছাত্রজনতা জেগেছে, দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আবু তালেব ভাইকে বিজয়ী করতে হবে।