- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ সাংবিধানিক সংকটে পড়বে--- শিশির মনির
- বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে ---- নাহিদ ইসলাম
- জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা-- কর্নেল (অব.) ড. অলি
- জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করলে গণভোটকে বিনা বাক্যে মেনে নিতে হবে --- ড. মাহমুদুর রহমান
১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, আগে সংস্কার পরে নির্বাচন এই দাবি না মানায় আজকে দেশ সংকটের মুখোমুখি। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেন, অপকর্ম করলে আগের চেয়ে পরের পরিণতি আরও বেশি ভয়ংকর হয়। আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে দেশছাড়া হয়েছে, সেই অপকর্ম করে আপনারাও পার পাবেন না; বরং আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
গতকাল সোমবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। কি নোট পেপার উপস্থাপন করেন সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডেভোকেট শিশির মনির। বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রমসহ দেশের শীর্ষ পেশাজীবী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। সংসদে কারো জমিদারি মানবো না, কারো কাছে সংসদ বন্ধকও দেবো না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংসদে দেখতে পাচ্ছি। সংসদে যাদের নাড়াচাড়া দেখা যায়, তাদের কে নাড়াচ্ছে জাতি এটা বুঝে। তারা এক সময় বলে গণভোট বৈধ, আবার বলে অবৈধ। জনগণ আমাদেরকে সংসদে পাঠিয়েছে জনগণের পক্ষে কথা বলতে। সংসদে বসে টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা দেখানোর জন্য জনগণ আমাদেরকে সংসদে পাঠায়নি।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, ১৪শ’ শহীদের মধ্যে ১২শ’ শহীদের বাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এসব শহীদরা সবাই শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদ নয়; তারা খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ। তারা রাজপথে নেমেছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধেÑসাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নে। তাদের সেই স্বপ্ন বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই আন্দোলন শুরু করতে বলছে। আন্দোলন শুরু করতে হবে না, আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়েই গেছে। এই আন্দোলনে আমরা শুধু সাথে থাকবো না, বরং সামনের সারিতে থাকবো। সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অপকর্ম করলে আগের চেয়ে পরের পরিণতি আরও বেশি ভয়ংকর হয়। আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে দেশছাড়া হয়েছে, সেই অপকর্ম করে আপনারাও পার পাবেন না; বরং আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে সরকার একের পর এক ব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে। এখনো সময় আছেÑসাবধান হয়ে যান। জনগণ রাজপথে নেমে এলে রক্ষা পাওয়া যাবে না- হুঁশিয়ারি দেন আমীরে জামায়াত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘এই নির্বাচনটা হয়েছে রিজওয়ানা-মার্কা নির্বাচন এবং এখানে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা খুব কম। সংবিধান এরা অনেকে বোঝে না। সুতরাং দুয়েকজনে যেটা বলে, এরা মাথা নাড়ে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। আমি বলবো প্রধানমন্ত্রীকে চিন্তা করতে হবে, তাঁর দলের যে যাই করুক, দায় তাঁকেই নিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের কারণে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে সরকার সেটি সামাল দিতে পারবে না। বিরোধী দলও আঙুল চুষবে না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আগে বলেছে গণভোট অবৈধ, এখন আবার বৈধ বলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেনÑসরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কি গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ? তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপসহ সকল সংসদ সদস্যের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি অনেকটা বাকশালি কায়দায় দমনের চেষ্টা। আপনারা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু মনে রাখবেন সংবিধান শুধু আপনারা একাই পড়েন না, আমরাও বুঝি।
অ্যাডেভোকেট শিশির মনির তার বন্ধে বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, ‘জগতে কোথাও কি শুনেছেন গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়? সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুলবে। আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে।
অতীতে সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ এবং ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো তো সংসদেই পাস হয়েছিল। তাহলে সুপ্রিম কোর্ট কেন এগুলো অসাংবিধানিক বললোÑএ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর অর্থ সংসদে যা ইচ্ছা তা করা যায় না। তিনি আরও বলেন, গণভোট হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার সরাসরি বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণভোট ছিল না; ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এটি সংযোজন করেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের গণভোট ছিল স্পষ্ট প্রশ্নভিত্তিক, যেখানে জনগণ পড়ে বুঝে ভোট দিয়েছে। অথচ আগের গণভোটগুলোতে প্রশ্ন অস্পষ্ট ছিল।
বিশেষ অতিথি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। আমরা বলেছিÑআগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যার ফলে আজকের সংকট তৈরি হয়েছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে। একটা নতুন বন্দোবস্ত হবে, যেখানে স্বৈরাচার বারবার ফিরে আসবে না। এজন্যই সংস্কার এবং রাষ্ট্র মেরামতের দাবি যে ফ্যাসিবাদকে বিলোপ করা সম্ভব হবে বলে আমরা একমত হয়েছিলাম। ফলে আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আমরা চেয়েছিলাম নতুন সংবিধান, বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন। ফলে একটা সমঝোতায় আসা হলো ঐক্যমত কমিশনের মাধ্যমে সে সংসদ হল সংস্কার। নতুন সংবিধান গণপরিষদের দাবি থেকে আমরা সংস্কার পরিষদের জায়গায় একমত হলাম। বিএনপিও নির্বাচনের জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসে অনেকগুলো সংস্কারে ঐক্যমতে বাধ্য হল। সেই জায়গা থেকেই গণভোট হলো। কিন্তু গণভোট পরবর্তী সময় আপনারা দেখছেন কীভাবে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে।
আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, গণভোটকে আমি আইনগত বা সাংবিধানিক তর্ক হিসেবে দেখতে চাই না। আমি এই গণভোট এবং জুলাই সনদকে জুলাই বিপ্লবের স্প্রিটে সবসময় দেখে এসেছি। আমার দেশ সম্পাদক বলেন, যারা আজকে গণভোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, কিংবা গণভোটের আইনি তর্ক তুলছেন, তারা আসলে কতটা জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করেন- সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। কাজেই জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করলে গণভোটকে বিনা বাক্য ব্যয়ে এবং বিনা তর্কে মেনে নিতে হবে যে, এটাই জনগণের অভিপ্রায়। জনগণ ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে সেই অভিপ্রায় আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়ে বিপ্লব করেছেন, তাদের একটি দাবি ছিল- রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই। রাষ্ট্র মেরামত করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কার সরকার পরিচালনা এবং সাংবিধানিকভাবে করতে হবে। কাজেই সেই সংস্কার নিয়ে আমরা কোনো তর্ক তুলতে পারব না।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর সেই ভূতে বিএনপি সরকারের ওপর চেপে বসেছে। ভূতটা হলো জনগণকে অপমান করার ভূত। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলকে সংক্ষেপে বললে সেটা ছিল জনগণকে উপহাস ও যেখানে-সেখানে অপমান করা।’
এখন সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা জাতিকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হয় বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন সংসদে বলেছেন, মানুষ না বুঝে গণভোটে ভোট দিয়েছে। তিনি মাস্টার সেজে সংসদ সদস্য ও জনগণকে সংবিধান শেখাতে চান। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত। ক্ষমতার মসনদে বসলে জনগণকে ক্ষুদ্র মনে হয়। বিএনপিকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা ক্ষমতা পেয়ে জনগণকে ইঁদুর আর নিজেদের সিংহ মনে করছে।’
বিশ্ব ইতিহাসে গণভোটকে উপেক্ষা করার নজির নেই উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, এই নজির প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি যেন নিজেদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ না করে। এটা বিএনপির প্রতি ১১ দলের সর্বশেষ শুভকামনা। এরপরও কিছু বলতে হলে আন্দোলনের মাঠে কথা হবে, রাজপথে তাদের মোকাবিলা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, গণভোটকে আইনি ভিত্তি দিতে বর্তমান সরকারের অনীহা দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের প্রসঙ্গ টেনে কী বলতে চাইছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন। এখন এসব নিয়ে কেন কথা বলছেন না, তা জাতি শুনতে চায়। হাসিনার আমলে ‘অলিগার্কদের’ রাজত্ব ছিল, এখন আবার ‘অলিগার্কদের’ পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী রুবী আমাতুল্লাহ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম (বুলবুল), খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি আবদুল হক, আইনজীবী শাহরিয়ার কবির, আইনজীবী বেলায়েত হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।