ভোট দিয়েই জয়ের আশা প্রকাশ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে রাজধানীর বেরাইদের এ কে এম রহমতুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন নাহিদ ইসলাম। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১১-দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। আমরা মনে করছি, আমরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে রয়েছে। এই জোট থেকে ঢাকা-১১ আসনে লড়েছেন নাহিদ ইসলাম।
ভোটারদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সবাই ভোটকেন্দ্রে আসুন। আজকে ভোটের দিন, আজকে এ দেশে নিজেদের মালিকানা বুঝে নেওয়ার দিন। এ সময় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনরায়কে মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।
আজ কোনো প্রতিকূলতাকে ফোকাস করছেন না জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা চাই, মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসুক। নাহিদ ইসলাম সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ আচরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যালটের মাধ্যমেই জনরায় প্রতিফলিত হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১৬ বছর সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ ছিল না। আমাদের আজ সুযোগ এসেছে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার, গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করার এবং ১১ দলের পক্ষে অবস্থান করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষ যদি ভোট দিতে আসে, তারা যদি স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারে, তাহলে অবশ্যই ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি না, কারণ ভয়-ভীতি যেন ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি না হয়। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসে সে জন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাই। প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ চাই। প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ আচরণ করে। তাহলেই সাধারণ মানুষের ভোট দিতে পারবে। ভোটাররা যত বেশি ভোট দিতে পারবে, আমাদের সরকার গঠনের পথ ততটাই সুগম হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও মিডিয়ার প্রতি আমাদের করোজোর অনুরোধ থাকবে, আমাদের এতো আন্দোলন-সংগ্রাম-আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে, যদি ভোট সুষ্ঠ না হয়। আমরা আশা করবো, তারা নিরপেক্ষ আচরণ করবে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ আচরণ করে তাহলে যারা গায়ের জোর দেখানোর চেষ্টা করছে, তারা সফল হবে না। তিনি বলেন, আমরা কাল রাতে কয়েকটি জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছি। আমাদের বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে আতিক মুজাহিদ, নোয়াখালীতে হান্নান মাসউদের, কুমিল্লায় হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকায় ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে একটা ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। ঢাকা-১১ আসনেও গতকাল রাতের অনেকগুলা জায়গায় আমাদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রতিকূলতাকে বেশি ফোকাস করছি না। আমরা ভোটে আসার জন্য আহ্বান করছি। কারণ আমরা চাই না, এইদিন কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক। আমরা চাই, মানুষ ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে আসুক। যারা এগুলো করছে আমরা মনে করি মানুষ ব্যালটে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে।
এনসিপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে মানবে না এনসিপি
ভোট রিগিং বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল নিয়ে আসার চেষ্টা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তা প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনিরা এ মন্তব্য করেন।
এনসিপি নেত্রী বলেন, ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই ভোট দিয়েছেন। ১২টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের তথ্য আসতে শুরু করে। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটনা- এমন খবর সারা দেশ থেকে আসছে। মনিরা শারমিন বলেন, ঢাকা-১৮ তে ধানের শীষের আইডি কার্ড নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। খিলক্ষেত এলাকার ভোট কেন্দ্রে নারীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় একই কক্ষে বিএনপির প্রার্থীর একাধিক পোলিং এজেন্ট ছিলেন। নোয়াখালী ৬-এ এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসুদের স্ত্রী এবং ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে।
মনিরা বলেন, হাতিয়া ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভোলার বোরহানুদ্দিনে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের পর ভোটগ্রহণ বন্ধ আছে। ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৮ আসনে আগে থেকে ভোট দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। শেরপুরে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় মৌখিক এবং লিখিতভাবে অভিযোগ করার পরও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।