বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনো আরোপিত আইন বা আদেশ দিয়ে সংসদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তিনি বলেন. আমরা মনে করি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব যাতে খর্ব না হয় সেজন্য আমরা কোন আরোপিত আইন দিয়ে, আদেশ দিয়ে, যেকোনো রকমের জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বকে আমরা হস্তক্ষেপ করাতে দিতে চাই না। কারণ এটাই দেশের একমাত্র সার্বভৌম হাউজ, যেই সার্বভৌম হাউজে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের সার্বভৌম প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় সংসদে যারা নির্বাচিত হবে তাদের মধ্য দিয়ে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে এক মৌন মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে একমাত্র হাউজ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সার্বভৌম হাউজ। যে হাউজের যেকোনো আলাপ-আলোচনা কার্যক্রম আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। সেই জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বকে ডিক্টেট করানোর মতো কোন প্রস্তাব কোন আরোপিত বিষয় থাকতে পারে না, সেটা আমরা পুনরুচ্চারণ করছি।
শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরে সামনে নারী ও শিশু ফেরামের উদ্যোগে ‘নারীর উপর ক্রমবর্ধমান সংহিংসতা ও অসম্মান : প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন সমাজ’ শীর্ষক এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পর নারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে একটি মৌন মিছিল যাদুঘরের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ করে।
গণভোটে সংবিধান সংশোধন হবে না জানিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কারণ এটা ব্যয় সাশ্রয়ী, এটা সময় সাশ্রয়ী, এইটা বিভিন্ন রকমের আয়োজনের সাশ্রয়ী এবং এটা সুবিধাজনক বেশি ভোটারদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা মতামত দিতে পারবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়ে যাবে না, গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে না। তার জন্য যে অবশ্যই জাতীয় সংসদ গঠিত হতে হবে। ‘একটি দল নারীদের কর্মঘন্টা কমাতে চায়’
সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশে একটি দল যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করে, রাজনীতির ব্যবসা করে এবং বিভিন্ন রকমের জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে রাজনীতি করতে চায় ভোটের বৈতরণি পার হতে চায় তাদের হাতে আজকে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। তারা চায় যেন এই দেশের নারীরা অন্দর মহলে বন্দী থাকে, যেন বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অন্ধকারে থাকে এবং নারীর অগ্রগতি প্রগতি না হয়। সেজন্য তারা বলছে যে, কর্মঘন্টা কমিয়ে দিতে হবে কর্মসংস্থানের জন্য যাতে কোনো রকমের অসুবিধা না হয়। অথচ দেখা যায় সেই কর্মঘন্টা কমিয়ে দিলে নারীদের কর্মসংস্থান কমে যাবে। আমরা চাই নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হোক। যারা কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। তারা চায় নারীরা অন্দর মহলে বন্দী থাকুক। সমাজের অগ্রগতি তারা চায় না।
নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরীন ইসলাম খান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, বিলকিস ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা দিপ্তী, মায়ের ডাক সানজীদা ইসলাম তুলি, ছাত্রদলের রেহানা আখতার শিরিন, মনসুরা আলম, ডাকসুর সানজীদা আহমেদ তন্বী বক্তব্য রাখেন।