স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুর-৬ সংসদীয় আসন বিলুপ্ত হয়ে পুনরায় গাজীপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন হাসান উদ্দিন সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃ্ন্দ।
সোমবার দুপুরে টঙ্গী বড় দেওরা আহসানুল্লাহ ইসলামিয়া ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার তার বক্তব্যে বলেন, গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার বাস্তবতা ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় শ্রমিক দলের নেতা সালাউদ্দিন সরকারকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার, বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন কায়সার, আখতারুজ্জামান, কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ, জসীমউদ্দীন বাট, এম এ করিম, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, রনি সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে গাজীপুর-২ আসনের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, যা বিবেচনায় না নিয়ে পূর্বের বাস্তবতায় দেওয়া মনোনয়ন বহাল রাখা হলে দলীয়ভাবে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় আট লাখে উন্নীত হয়েছে, ফলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও চ্যালেঞ্জিং আসনে পরিণত হয়েছে। বক্তারা জানান, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা, গাছা ও পূবাইল এলাকা মিলিয়ে এই আসনের অধিকাংশ ভোটার অবস্থান করছেন, অথচ বর্তমান মনোনীত প্রার্থীর বসবাস কাউলতিয়া এলাকায়, যেখানে ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এই বাস্তবতায় ভৌগোলিক ভারসাম্য, মাঠসংযোগ ও ভোটার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য নয়, বরং দলীয় স্বার্থ, নির্বাচনী কার্যকারিতা ও বিজয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার যৌক্তিক দাবি। তাঁদের মতে, টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল দীর্ঘদিন ধরে একই নগর বাস্তবতার অংশ এবং অতীতেও এই আসনের নেতৃত্ব মূলত টঙ্গীকেন্দ্রিক অঞ্চল থেকেই উঠে এসেছে।
বক্তারা আরও বলেন, এই এলাকার নেতাকর্মীরা বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন, জেল-জুলুম ও মামলার বোঝা বহন করেছেন এবং ভোটাধিকার হরণ ও ভোটকেন্দ্র দখলের ঘটনার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হয়েছেন। এসব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবদান, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই গাজীপুর-২ আসনের মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনের ভোটার বাস্তবতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও স্থানীয় সাংগঠনিক মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।